- Advertisement -

রোপাআমন ধানের বীজ উৎপাদন কলাকৌশল

ধানের বীজ উৎপাদন

463

- Advertisement -


রোপাআমন ধানের বীজ উৎপাদন কলাকৌশল

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

ফসল উৎপাদনে বীজ একটি মৌলিক উপকরণ। বীজ কেবল ফসলের বংশ বৃদ্ধিই করে না, বীজ ফসলের ফলন বৃদ্ধি করে, ফসলের মান উন্নয়ন করে, ফসলের কীট পতঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং নিদিষ্ট ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থায় ফসল জন্মানোর উপযোগিতা নিয়ন্ত্রন করে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া ফসল উৎপাদনের অনুকূল হওয়া সত্ত্বেও  এখানে প্রধান খাদ্যশস্য যেমন ধান,গম, গোল আলু, মিষ্টি আলু, তৈল ও ডাল এসব ফসলের হেক্টর প্রতি ফলন অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। এর অন্যতম কারণ আমাদের দেশে মানসম্মত বীজের অপ্রতুলতা এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব। হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি এবং চাহিদা মোতাবেক ফসলের উৎপাদন নিশ্চিত করার  ক্ষেত্রে মানসম্মত বীজের বিকল্প নেই।

বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বীজমাণ বজায় রাখতে যেসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকা একান্ত আবশ্যক তা হলো-

(ক) জাতের বিশুদ্ধতা : নির্দিষ্ট জাতের যাবতীয় গুণাগুণ বজায় থাকতে হবে।

(খ) বীজের বিশুদ্ধতা এবং জড় পদার্থ ও অন্য জাতের মিশ্রণ থাকা চলবে না এবং বীজ রোগ মুক্ত হতে হবে।

(গ) বীজের চেহারা এবং আকার সম আকৃতির, সুপরিপক্ক ও পুষ্ট হতে হবে।

(ঘ) বীজ গজানোর ক্ষমতা শতকরা ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ হতে হবে।

(ঙ) বীজের আর্দ্রতা ১২% এর মধ্যে থাকতে হবে।

(চ) বীজের যান্ত্রিক ক্ষতি অর্থাৎ বীজের কোন অংশ ভাঙ্গা বা ক্ষতিগ্রস্থ অথবা আঘাতপ্রাপ্ত হলে চলবে না।

বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জন্য কতিপয় উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে সাধারণ ধারণা থাকা দরকার। প্রযুক্তি গুলো হলো- 

১। ফসলের জাত– প্রতি ফসলের একাধিক জাত আছে যাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে জাত সনাক্ত করা সম্ভব।

২। স্বতন্ত্রীকরণ বা পৃথকীকরণ দূরত্ব– যে কোন শস্যের বীজ উৎপাদন করতে গেলে নির্বাচিত খন্ড, জমি ও পার্শ্ববর্তী অন্য জমির মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের ব্যবধান রাখতে হয়। এ দূরত্বকেই বলা হয় স্বাতন্ত্রীকরণ বা পৃথকীকরণ দূরত্ব। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো- উৎপাদিত শস্য বীজের সাথে অবস্থিত অন্য কোন জাতের সংমিশ্রণ থেকে বিরত রাখা এবং পরাগায়নের মাধ্যমে যাতে চারিত্রিক গুণাগুণ নষ্ট না হয় তা নিশ্চিত করা। ফসলভেদে এই একত্রিকরণ দূরত্বের তারতম্য হয়ে থাকে। তবে ধান স্বপরাগী শস্য বলে এই স্বাতন্ত্রীকরণ দূরত্ব ৩ মিটার হলেই চলবে।

৩। উৎপাদন পদ্ধতি – উৎপাদন পদ্ধতি যেমন- জমি প্রস্তুত, বপন বা রোপণ, গাছের অনুকূল ঘনত্ব, সুষম সার প্রয়োগ ও প্রয়োজনমত সেচ প্রদান করা এসব ।

৪। রগিং বা বাছাইকরণ– বীজ বপন থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত বিশুদ্ধ বীজ ব্যবহার ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষ করলেও ফসলের ক্ষেত্রে কিছু কিছু অন্য জাতের গাছ ও আগাছা দেখা যায়। সে কারণে রগিং করা প্রয়োজন হয়। রগিং অর্থ হচ্ছে বিজাত বা অন্য জাত বাছাই। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- ক) বিজাত বা অন্যজাত তুলে ফেলা খ) জাতের বিশুদ্ধতা ঠিক রাখা গ) ক্ষতিকারক আগাছা দমন করা ঘ) অন্য ফসলের গাছ নির্মূল করা ঙ) রোগমুক্ত ফসলের গাছ সরিয়ে ফেলা।

এ অবস্থায় ফসলের জমির সর্বত্র ঘুরে ফিরে বিভিন্ন সময়ে রগিং করা উচিত। ফসলভেদে রগিং ২ থেকে ৪ বার করা উচিত। তবে প্রধানত অঙ্গজ বৃদ্ধির সময়, ফুল আসার সময় ও বীজ পরিপক্কতার সময় রগিং করা আবশ্যকীয়। পরপরাগায়িত ফসলে ফুল আসার আগে রগিং অবশ্যই করতে হবে।

বীজ উৎপাদনকালে মাঠ পরিদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের বৈশিষ্ট হলো- ক) চারা অবস্থায় দেখতে হবে স্বাতন্ত্রীকরণ দূরত্ব সঠিক আছে কিনা খ) আগাছা এবং বিজাত উৎপাটিত হয়েছে কিনা গ) ফুল আসার সময় বিজাত এবং বিজাত পরাগরেণু ছড়ানো গাছ উৎপাটন করা হয়েছে কিনা। ঘ) বীজ পরিপক্ককালে বিজাত ও অসুস্থ গাছ উৎপাটন নিশ্চিত হয়েছে কিনা।

৫। ফসল কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াইকরণ– মাঠের ফসল ভালভাবে পাকার পর কাটতে হবে। ধান কখন সুপরিপক্ক হয় তা গাছের ও ছড়াতে ধানের চেহারা দেখেই নির্ধারণ করা যায়। এ অবস্থায় এ গাছের নিচের পাতাগুলো মরে যায় এবং ধান সোনালী রঙ ধারণ করে। আর বীজে শতকরা ১৮ ভাগ বা তার নিচে জলীয় অংশ থাকলে বুঝতে হবে ধান কাটার উপযুক্ত সময় হয়েছে। যতদূর সম্ভব মেঘমুক্ত রৌদ্রোজ্জল দিনে ধান কেটে সাথে সাথে মাড়াই করে ফেলতে হবে। বীজের ধান মাড়াইয়ের ক্ষেতে আড়াই বাড়ি একটি জনপ্রিয় কৌশল। এরপর খড় হতে আলাদা করে কুলা, চালনী বা যান্ত্রিক উপায়ে পরিস্কার করে বীজ বের করতে হবে। ফসল কাটার পর অবশ্যই স্বতন্ত্র জায়গায় ঝাড়াই মাড়াই করতে হবে এবং মাড়াইয়ের সময় অন্য ফসল মাড়াই করা চলবে না।

 

 

- Advertisement -

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.