- Advertisement -

আউশ ধানের জাত নির্বাচন, বীজতলা তৈরি ও অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা

আউশ ধান উৎপাদন

1,112

- Advertisement -

উফশী আউশ ধানের জাত নির্বাচন, বীজতলা তৈরি, বীজ বপন ও অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

জাত নির্বাচন 

ভাল বীজে ভাল ফসল। ভাল বীজ বলতে সুস্থ সবল, রোগ জীবাণু মুক্ত, পরিস্কার, আগাছার বীজ মুক্ত এবং অংকুরোদগম কমপক্ষে ৮০ ভাগ হতে হবে। বীজ নির্বাচন করার সময় অবশ্যই মূল জমির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সাধারণত উচু, মাঝারি উচু জমিতে বিআর২৬, ব্রি ধান২৭, ব্রি ধান ৪৮, ব্রি ধান৫৫, নেরিকা মিউটেন্ট এসব ধানের জাত নির্বাচন করতে হবে। স্বল্পকালীন ও উচু জমিতে নেরিকা মিউটেন্ট জাতের ধান লাগাতে পারেন। খরাপ্রবণ এলাকায় ব্রি ধান৫৫ চাষ করতে পারেন। মৌসুমের শেষের দিকের বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য নেরিকা মিউটেন্ট জাত খুবই উপযোগী। আমরা কৃষক নিজেদেরকেই বীজ রাখতে পরামর্শ দেই। তারপরও বিশ্বস্থ হিসেবে বিএডিসি ডিলার কর্তৃক সরবরাহকৃত বীজ সংগ্রহ করতে পারেন। বীজ বাছাই ও শোধনের পর বীজ জাগ দিতে হবে।

বীজতলা তৈরি 

সাধারণত দোআঁশ ও এঁটেল মাটি বীজতলার জন্য ভাল। বীজতলার জমি উর্বব হওয়া প্রয়োজন। যদি জমি অনুর্বর হয় তাহলে প্রতি বর্গমিটার জমিতে দুই কেজি হারে জৈব সার (পচা গোবর বা আবর্জনা) সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর জমিতে ৫-৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ২.০ থেকে ২.৫ ইঞ্চি) পানি দিয়ে দু’তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭-১০ দিন রেখে দিতে হবে এবং পানি ভালভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে। আগাছা, খড় ইত্যাদি পচে গেলে আবার চাষ  ও মই দিয়ে কাদা করে জমি তৈরি করতে হবে। এবার জমির দৈর্ঘ্য বরাবর এক মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবে। দু’বেডের মাঝে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার (প্রায় ১ ফুট) জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। নির্ধারিত জমির দু’পাশের মাটি দিয়ে বেড তৈরি করা যায়। এরপর বেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের চেপটা লাঠি দিয়ে সমান করতে হবে। বেড তৈরির ৩/৪ ঘন্টা পর বীজ বোনা উচিত। বীজতলা তৈরির জন্য দু’বেডের মাঝে যে নালা তৈরি হয় তা খুবই প্রয়োজন। এ নালা যেমন সেচের কাজে লাগে তেমনি পানি নিস্কাশন বা প্রয়োজনে সার/ওষুধ ইত্যাদি প্রয়োগ করা সহজ হয়।

বীজতলায় বপন

সতেজ ও সবল চারা সবাই চায়। তাই বীজ বাছাইকরণের আগেই বীজের ওজন করে নিতে হবে। প্রতি বর্গমিটার (প্রায় ৩.৫ ফুট বাই ৩.৫ ফুট) বেডে ৮০-১০০ গ্রাম বীজ বোনা দরকার। সে অনুযায়ী অঙ্কুরিত বীজ বেডের উপর সমানভাবে বুনে দিতে হবে। বীজ বেডের উপর থাকে বলে পাখিদের নজরে পড়ে। তাই বপনের সময় থেকে ৪/৫ দিন পর্যন্ত পাহারা দিয়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং  সম্ভব হলে নালা ভর্তি করে পানি রাখতে হবে।

অতিরিক্ত খরায় বীজতলার যত্ন ও সাধারণ পরিচর্যা

চৈত্র ও বৈখাশ মাসে বৃষ্টিপাত কম হয়। অস্বাভাবিক খরায় মাঠ ঘাট শুকিয়ে চৌচির হয়ে যায়। এ সময় বীজতলায় পানি ছিটিয়ে দেয়া খুব জরুরী। নতুবা চারা লিকলিকে ও দুর্বল হয়। চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলেই চলে। ইউরিয়া প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে গন্ধকের অভাব হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তখন প্রতি বর্গমিটারে (প্রায় ৩.৫ ফুট ঢ ৩.৫ ফুট) ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগের পর বীজতলার পানি ধরে রাখা উচিত ।

চারা উঠানো

এমনভাবে চারা উঠাতে হবে যেন চারার কান্ড মুচড়ে বা ভেঙ্গে না যায়। চারা উঠানোর পর ওই চারার পাতা দিয়ে বান্ডিল বাঁধাও উচিত নয়। শুকনো খড় ভিজিয়ে নিয়ে বান্ডিল বাঁধতে হবে।

চারা বহন

বীজতলা থেকে রোপণের জন্য চারা বহন করার সময় পাতা ও কান্ড মোড়ানো পরিহার করতে হবে। এজন্য ঝুড়ি বা টুকরিতে সারি করে সাজিয়ে পরিবহন করা উচিত। বস্তাবন্দী করে ধানের চারা কোনক্রমেই বহন করা উচিত নয়।

রোপা আউশ ধান উৎপাদনে বিশেষ পরামর্শ

১. অধিক অম্লীয় এলাকায় জমিতে শতক প্রতি ০৪ কেজি হারে ডলোচুন প্রয়োগ করে, হালকা চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

২. আকস্মিক বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই স্বল্প জীবনকাল জাত ও নির্ধারিত সময়ে আবাদ করতে পারেন।

৩. কম বয়সের (২০-২৫ দিন) সুস্থ সবল চারা রোপণ করতে হবে

৪. শুকনা বীজতলাও আউশ ধানের জন্য করা যায়।

——

- Advertisement -

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.