- Advertisement -

হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদনে সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান

207

- Advertisement -

 

সংকটে হাওরের বোরো উৎপাদন ও উত্তোরণের সম্ভাব্য উপায়

হাওরের এক ফসলি বোরো ধান; হাওরবাসীর প্রাণ। বাংলাদেশের মোট বোরো ধান উৎপাদনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভাগ ধান যোগান দেয়, আমাদের প্রিয় হাওর। যা স্থানীয় চাহিদা মেটায়, অন্যদেরও আহার যোগান দেয়। হাওরে ধান উৎপাদনে ব্যাঘাত হলে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই হাওরে বোরো ধান উৎপাদনে বিশেষ দৃষ্টি দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। স্বাভাবিকভাবে, ধান উৎপাদন যতটুকু সহজ ব্যাপার হাওরে বোরো ধান উৎপাদন ততটাই চ্যালেঞ্জিং বটে। হাওরাঞ্চলে কৃষি ও কৃষকের সাথে মিশে স্বল্প বিস্তর অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে আমার উপলব্ধিটুকু লেখার নিরন্তর চেষ্টা।

হাওর থেকে সময়মতো পানি না নামা, সময়মতো শ্রমিকের অপ্রতুলতা, বহিরাগত শ্রমিকের আবাসন ও স্বাস্থ্য সমস্যা, আধুনিক কলাকৌশলগত কারিগরী জ্ঞানের অভাব, অসময়ে বৃষ্টি, বীজতলা তৈরিতে সমস্যা, শৈত্যপ্রবাহ, অতিরিক্ত গরম, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, চিটা সমস্যা, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রার্দুভাব সর্বোপরি পাহাড়ী ঢল তথা আগাম বন্যা বোরো ফসলকে সময়ে সময়ে বিপদে ফেলে, কষ্ট দেয়, থমকে দেয়, বিব্রত করে এমনকি নিঃস্ব করেও দেয়। ফলশ্রুতিতে প্রাণের কৃষক চুড়ান্তভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

হাওরে বোরো ফসল মূলত প্রকৃতি নির্ভর হলেও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণে কোন প্রকার ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই কাঙ্খিত ফলন আশা করাই যায়। জাগতিক সমস্যাসমূহ ও প্রকৃতির বিরুপ আচরণকে আমাদের সীমিত সম্পদ, প্রযুক্তি, দৃঢ় মনোবল ও সবার আন্তরিক সহযোগিতা এবং সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনায় নির্বিঘ্নে বোরো ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।

কারিগরী জ্ঞান সমৃদ্ধকরণসহ সঠিক জাত এবং বীজতলা তৈরির সঠিক সময় নির্ধারণ করাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জমির অবস্থান, উর্বরতা ও পাহাড়ি ঢল নামার সময় বুঝে উপযুক্ত ধানের জাত নির্বাচন করতে হবে। হাওর অঞ্চলে স্বল্প জীবনকালীন ধানের জাত ব্যবহার করাই অতি উত্তম। তবে হাওরের কান্দা বা উঁচু জায়গা বা স্কিমের জমিতে ব্রি ধান৫৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ এসব দীর্ঘ জীবনকালীন (১৫০ দিন বা বেশি) জাত আবাদ করতে পারেন। হাওরের তলানি বা নিচের দিকে অবশ্যই স্বল্প জীবনকালীন জাত (১৪০-১৪৫ দিন) যেমন ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮৮, ব্রি হাইব্রিড ধান ৩, ব্রি হাইব্রিড ধান ৫ এবং এসএল৮এইচ চাষাবাদ করতে পারেন। তবে হাওরের একেবারে তলানিতে উফশী বোরো ধান আবাদ না করাই শ্রেয়। বেসরকারিভাবে বাজারজাতকৃত বিভিন্ন কোম্পানীর হাইব্রিড ধান যেমন তেজগোল্ড, ছক্কা, সুবর্ণ-৩, জনকরাজ, সিনজেন্টা ১২০৩, সিনজেন্টা ১২০৫, হীরা ০৬ এসব জাতগুলোও চাষাবাদ করতে পারেন।

বোরো ধানের প্রজনন পর্যায়ে শৈত্যপ্রবাহ কিংবা অতিরিক্ত গরম, তাছাড়া আগাম পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ জীবনকালীন জাত যেমন ব্রি ধান২৯ অবশ্যই নভেম্বর মাসের ০১ থেকে ০৭ তারিখের (১৭-২৩ কার্তিক) মধ্যে বীজতলা সম্পন্ন করে, ৩৫-৪৫ দিন বয়সী চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। আবার কম জীবনকালীন জাতের জন্য যেমন ব্রি ধান২৮ অবশ্যই ১৫ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বরের (অগ্রহায়নের প্রথম সপ্তাহ) মধ্যে বীজতলা সম্পন্ন করে ৩০-৩৫ দিন বয়সী চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, ধানের প্রজনন পর্যায়ে গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নিচে পাঁচ দিনের অধিক সময় বিরাজ করলে ধানের অতিরিক্ত চিটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় হাওর এলাকায় বৈশাখের তৃতীয় সপ্তাহে (এপ্রিলের শেষ/মে মাসের শুরু) পাহাড়ি ঢলে বন্যা আসে। বৈশাখের প্রথম সপ্তাহ (১৪-২০ এপ্রিল) ধান পাকলে একদিকে যেমন চিটা হবে না, অন্যদিকে ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। তাইতো সঠিক সময়ে সঠিক জাতের এবং সঠিক বয়সের ধানের চারা রোপণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ভালো বীজে ভাল ফসল। তাই ভালো বীজ সংগ্রহ করে, শুরুতেই ছত্রাকনাশক কার্বেন্ডাজিম ( কেজি প্রতি ০৩ গ্রাম) শোধন করতে হবে, এর ফলে জমিতে বাকানি রোগের প্রার্দুভাব কমে যাবে। বীজতলা তৈরিতে অবশ্যই আদর্শ বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে। বীজতলায় প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ৫০ গ্রাম (সাধারণত ৮০-১০০ গ্রাম) বীজ ব্যবহার উত্তম, এতে হালিচারা গুলো বীজতলাতেই কমপক্ষে তিনটা কুশি গজায়, যা পরবর্তীতে ফলন বাড়াতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। বীজতলায় প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ০৭ গ্রাম এমওপি ও ০৭ গ্রাম টিএসপি সার ব্যবহার করলে হালিচারার গুণগতমান বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া শৈত্য প্রবাহ থেকে রক্ষার জন্য বীজ তলায় ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা উচিত পাশাপাশি সূর্যোদয়ের ২-৪ ঘন্টা পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা উচিত।

বোরো ধানের চারা রোপণের সময় কম জীবনকালীন জাত যেমন ব্রি ধান২৮ বা ব্রি ধান৮৮ বা হাইব্রিড (১৫০ দিন বা তার চেয়ে কম জীবনকালের) ধানের জাতের ক্ষেত্রে ৩০-৩৫ দিনের চারা রোপন করতে হবে। দীর্ঘ জীবনকালীন জাত যেমন ব্রি ধান২৯ (১৫০ দিনের বেশি) জাতের ক্ষেত্রে ৩৫-৪৫ দিনের চারা রোপন করতে হবে। বাদামী গাছ ফড়িংয়ের আক্রমনপ্রবণ এলাকায় ২৫ সেমি ১৫ সেমি ব্যবধানে এবং লোগো পদ্ধতিতে (৮-১০ সারি পর পর সারি ফাঁকা রাখা) রোপন করা উত্তম। চারা রোপনের সময় জমির উর্বরতা অনুযায়ী সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে। কৃষি বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, বোরো ধানের জমিতে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের সময় ১ম কিস্তিতে মোট সারের ৫০ ভাগ, ২য় কিস্তিতে ৩০ ভাগ এবং ৩য় কিস্তিতে ২০ ভাগ হারে প্রয়োগ করলে ধান গাছের জন্য খুব ভালো হয়, কারণ সক্রিয় কুশির সংখ্যা বেড়ে যায় ফলে ফলন বাড়ে। তাছাড়া এমওপি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোট পরিমাণের ৮০ ভাগ জমি তৈরির সময় এবং বাকি ২০ ভাগ উপরি প্রয়োগ করলে বালাইয়ের আক্রমন কম হয়। ধান উৎপাদনে টনিক থেরাপি হলো, থোর আসার ঠিক আগ মুহুর্তে ৬০ গ্রাম এমওপি সার, ৬০ গ্রাম (৮০% সালফার অর্থ্যাৎ থিয়োভিট বা কুমুলাস বা সালফক্স, ৪০ গ্রাম জিংক সালফেট বা ২.৫ গ্রাম চিলেটেড জিংক ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ০৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করলে গুণগতমানের ধান ও ফলন বাড়ে।

হাওরে ফসলি মাটি পানির নিচে থাকে বিধায় সালফারের ঘাটতি হয়ে থাকে, তাই সালফার জাতীয় সার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া হাওরে জিংক সারের অভাব লক্ষ্য করা যায় তাই জিংক সার ১% হারে স্প্রে করা যেতে পারে। চারা রোপনের পর শৈত্য প্রবাহ হলে মাঠে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে।

উল্লেখ্য যে, বিগত কয়েক বছর ধরে হাওরাঞ্চলের রাজকীয় ধান ব্রি ধান২৮ ধানে ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তাই বোরো মৌসুমে ধানের শীষ ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ার আগেই অনুমোদিত ট্রাইসাইক্লাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন ট্রপার, দিফা হেক্টরপ্রতি ৪০০ গ্রাম অথবা স্ট্রবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন নেটিভো, ম্যাকটিভো হেক্টরপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ধানের শীষ বের হওয়ার সাথে সাথে বিকালে ৫ থেকে ৭ দিন ব্যবধানে দুইবার স্প্রে করতে হবে। ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ বা বিএলবি দেখা দিলে ৬০ গ্রাম থিওভিট ও ৬০ গ্রাম পটাশ সার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতাংশ জমিতে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর দুইবার স্প্রে করতে হবে। সম্ভব হলে জমি পর্যায়ক্রমে শুকানো ও ভিজানো সেচ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। থোড় অবস্থায় এ রোগ দেখা দিলে বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে।

হাওরের কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। শ্রমিক সমস্যা সমাধানে সহজতর ও দ্রুততম উপায় হলো যান্ত্রিকীকরণ। তাই চাষাবাদের শুরুতেই সমলেয় চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বীজতলা তৈরি, একই সময়ে রোপণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা অত:পর একই সময়ে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে কর্তনে উৎসাহিত করতে হবে। ধান কর্তন শুরু হওয়ার পূর্বেই মেশিনগুলো মেকানিক দ্বারা সার্ভিসিং করে প্রস্তুত রাখা। কোন পার্টস এর প্রয়োজন হলে কোম্পানীর সহযোগিতা নেয়া, প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তা নেয়া। তাছাড়া কৃষি মেশিনগুলো বহুমূখী ব্যবহার উপযোগী করে নির্মাণ করা যেতে পারে। তাতে কর্তনকালীন সময়ের পরে গ্রামীন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

বাঁধ ভেঙে পানি ডুকলেই সব আয়োজন পন্ড। তাই বাঁধ সংস্কার ও পুন:নির্মাণ নিশ্চিত করা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি জায়গায় পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি বা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ বা সিমেন্টের ব্যাগ, বাশ, রশি বা সুতা, টিন অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখা। এমনকি টিনের বা স্টিলের বড় বড় পাত মজুদ রাখা। বাঁধে আনসার বাহিনী দ্বারা নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা রাখা। সর্বোপরি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বাঁধের কাজ সমাপ্ত করা।

করোনাকালে হাওর কৃষিতে একটু বাড়তি মনোযোগ দিতেই হবে। হাওর এলাকার উপজেলা কৃষি অফিসার যেন দ্রুততম সময়ে কৃষি সেবা ও সমস্যা সমাধানে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নিতে পারে সেজন্য গাড়ির সুবিধা দেয়া একান্ত প্রয়োজন। কৃষি উপকরণসমূহ যথা গুণগতমানের বীজ, সার ও বালাইনাশকের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতেই হবে। কৃষিজ পণ্যবাহী যানবাহনের অবাধ চলাচল সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বহিরাগত কৃষি শ্রমিক আনয়নে সরকারি সহযোগিতা করতে হবে। তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তাই মৌসুম শুরুর প্রথম থেকেই সরকার তথা প্রশাসন, পুলিশ, ডাক্তার ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠনের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তাদের সুবিধাদি নিশ্চিত করতে হবে। অস্থায়ী কমিউনিটি রেডিও স্থাপন করা এবং নিয়মিত বোরো ধান উৎপাদন কলাকৌশলসহ করোনা প্রতিরোধী কথিকা প্রচার করা। হাওরে মাড়াই কেন্দ্র বা খলাগুলোতে পর্যাপ্ত সুপেয় খাবার পানি, স্যালাইন, সাবান, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তোয়ালের সুবিধাদিসহ বিশ্রাম নেয়ার জন্য অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। শ্রমিকদের জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল তথা লেবু, পেয়ারা ও কাচামরিচ গ্রহণে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনে এসব কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা এনজিওদের অন্তরভূক্ত করা যেতে পারে। সময়মতো ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের জন্য সরকারি সহায়তায় কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার মেশিন ও মাড়াই যন্ত্র মার্চ মাসের মধ্যেই সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেয়া যেতে পারে। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার মেশিনের মালিকদের সাথে একটা বিশেষ সভা করা যেতে পারে। সেচ মেশিনে যথাসময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া ও সেচ মেশিন চালু করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সর্বোপরি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে অবশ্যই বাঁধ নির্মাণ সমাপ্ত করতেই হবে। বাঁধ নির্মাণে সবার আন্তরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

একজন কৃষকের পরম ইচ্ছা, হাওর অঞ্চলের জন্য এমন জাত দরকার যা স্বল্প জীবনকাল, উচ্চ ফলনশীল, ঠান্ডা ও খরা সহনশীল, হেলে ও ঝরে পড়ে না। হাওর এলাকায় একটা প্রচলিত মিথ রয়েছে, প্রতি চার বছর পর পর আগাম বন্যার কবলে বোরো ধান আক্রান্ত হয়ে থাকে। ২০১৭ সালে আকস্মিক বন্যার ভয়াবহ করাল গ্রাসের পর এবার চার বছর পর করোনার বিভীষিকাময় ২০২০-২০২১। তাই প্রস্তুতি না নেয়ার কোন যুক্তিই নাই। এটা সত্য, করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যেও কৃষকরা থেমে ছিল না, থামবেও না। তারা কারো মুখাপেক্ষী নয় তবে তাদের পাশে দাড়ানো রাষ্ট্রের কর্তব্য। আগামীর পৃথিবী হবে অনিন্দ্য সুন্দর, কৃষি ও কৃষক হবে সুন্দরের কারিগর।

কৃষিবিদ মোহাইমিন
একটি সংকলনধর্মী প্রবন্ধ।

বিনা অনুমতিতে প্রবন্ধের পুরো বা আংশিক অংশ কপি না করার অনুরোধ রইল।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.