- Advertisement -

সবজি ও ফলে হরমোন প্রয়োগের গুরুত্ব ও প্রয়োগ পদ্ধতি

হরমোনের ব্যবহার

12,447

- Advertisement -

সবজি ও ফলে হরমোন এবং ভিটামিন প্রয়োগের গুরুত্ব ও প্রয়োগ পদ্ধতি

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটোহরমোন : গাছের হরমোন হলো এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা দ্বারা গাছের কোন বিশেষ অংশ বা পুরো গাছের বৃদ্ধি, বিকাশ ও অন্যান্য অঙ্গ তৈরি নিয়ন্ত্রণ করে। একে গাছের প্রাণরসও বলা হয়। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ তার শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া প্রক্রিয়ায় হরমোন উৎপাদন করে গাছের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ যেমন গাছের শাখা প্রশাখা ও কান্ডের বৃদ্ধি, মূলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল তৈরি এবং পাতা, ফুল ও ফল ঝরে পড়া এসব প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

উদ্ভিদ ও প্রাণীদের দেহে একাধিক হরমোন বিদ্যমান, যারা একই কাজ একই সময়ে করে ফেলতে পারে। অধিকাংশ বিজ্ঞানিদের মতে যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয়ে উৎপত্তি স্থল থেকে বাহির হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ পুঞ্জের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বলে। উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে সক্ষম। গাছের প্রধান হরমোন গুলো হলো অক্সিন, জিবলেরিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক এসিড, ইথিলিন এসব উল্লেখযোগ্য। এগুলো ব্যতিত উদ্ভিদের দেহে আরও অনেক হরমোন বিদ্যমান, যা শনাক্ত কৃত নয় বা করা হয়নি, এদের কে পুষ্টুলেটেড হরমোন বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গসমূহ বিকাশে নিয়োজিত। এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন ও ভার্নালিন বিদ্যমান। ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্ত্ররিত হয়ে পুষ্প মুকুলে রুপান্ত্ররিত হয়। এ কারণেই উদ্ভিদের ফুল ফুটানোর জন্য ফ্লোরিজেন হরমোন কে দায়ী করা হয়।

উদ্ভিদ হরমোনের উৎপত্তিস্থল:

উদ্ভিদের কান্ড ও মূলের অগ্রস্থ ভাজক কলা উদ্ভিদ-হরমোনের প্রধান উৎপত্তিস্থল। এছাড়া বীজপত্র, মুকুলিত পত্র, ভ্রূণ মুকুল, ভ্রূণ মুকুল আবরণী , শস্য, ফল উদ্ভিদ হরমোন থাকে ।

উদ্ভিদ হরমোনের শ্রেণিবিভাগ:-

উদ্ভিদ হরমোনগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে যথা: (ক) প্রাকৃতিক হরমোন ও (খ) কৃত্রিম হরমোন। প্রাকৃতিক হরমোন:- যে সমস্ত হরমোন উদ্ভিদদেহে প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি হয় তাদেরকে প্রাকৃতিক হরমোন বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় অক্সিন, জিব্বেরেলিন, কাইনিন এসব। আবার কৃত্রিম হরমোন হলো গবেষণাগারে প্রস্তুতকৃত যে সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রাকৃতিক হরমোনের মতো উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে সাহায্য করে তাদের কৃত্রিম হরমোন বলে । কৃত্রিম হরমোন কখনও উদ্ভিদ কোষে প্রাকৃৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় না এবং উদ্ভিদদেহে সংশ্লেষিত হয় না । যথা ইন্ডোল প্রোপায়নিক অ্যাসিড; ২,৪-ন্যাপথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড, ডাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড [২,৪-ডি], ইন্ডোল বিউটাইরিক অ্যাসিড [IBA]; -২, ৪-৫ ট্রাইক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড [২,৪-৫ T], মিথাইল ক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড [MCPA], ইন্ডোল অ্যাসিটালডিহাইড [IALD]  ।

অক্সিন:- অক্সিন উদ্ভিদদেহের প্রধান বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হরমোন । এই হরমোন হেটরো-অক্সিন নামেও পরিচিত । এর রাসায়নিক নাম ইন্ডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড [Indole Acetic Acid – IAA] । উদ্ভিদের কান্ড ও মূলের অগ্রভাগ, মুকুলাবরণী, বর্ধনশীল পাতার কোষ এসব থেকে উৎপন্ন নাইট্রোজেন ঘটিত যেসব জৈব অ্যাসিড উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একসঙ্গে অক্সিন বলে । যথা : ইন্ডোল অ্যাসিটিক অ্যাসিড [IAA]। অক্সিনের উৎসস্থল – অক্সিন উদ্ভিদের অগ্রস্থ ভাজক কলায়, বিশেষ করে কান্ডের অগ্রভাগ, ভ্রূণমুকুলাবরণী বা কোলিওপটাইল, ভ্রূণ ও কচিপাতা বা বর্ধনশীল পাতার কোশে উত্পন্ন হয় ।

অক্সিনের কাজ: অক্সিন প্রধানত উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে । এছাড়া অক্সিনের প্রভাবে : উদ্ভিদ কোষ বিভাজিত হয় । কোষ আয়তনে প্রসারিত হয় । ক্যাম্বিয়ামের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় । কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়, ফলে উদ্ভিদের সামগ্রিক বৃদ্ধি ঘটে । অক্সিন উদ্ভিদের ফটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহন করে । অক্সিন আলোর উৎসের বিপরীত দিকে বেশি মাত্রায় সঞ্চিত হয়ে ওই অঞ্চলের কোষগুলির দ্রুত বিভাজন ঘটায়, ফলে উদ্ভিদের কান্ড আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায় । অক্সিন উদ্ভিদের অপরিণত অঙ্গের (পাতা, মুকুল, ফুল, ফল ইত্যাদি) অকাল পতন রোধ করে । লঘু ঘনত্বের অক্সিন উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির পরিস্ফুটন ঘটায় । এইভাবে অক্সিন উদ্ভিদের ফল ও বীজ গঠনেও সাহায্য করে । অক্সিনের প্রভাবে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাশয়টি ফলে পরিণত হয়, ফলে বীজহীন ফল সৃষ্টি হয় । অক্সিনের প্রভাবে নিষেক ছাড়াই বীজ বিহীন ফল সৃষ্টি হওয়ায় এই পদ্ধতিকে পার্থেনোকার্পি বলে । উদ্ভিদের লিঙ্গ নির্ধারণে অক্সিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে ।

অক্সিনের ব্যবহারিক প্রয়োগ :- কৃষিকার্যে অক্সিন হরমোনের ব্যবহারিক প্রয়োগ হল : বীজহীন ফল উৎপাদন:- বীজহীন ফল (টম্যাটো, বেগুন, লঙ্কা, লাউ, কুমড়ো, পেঁপে, তরমুজ আঙ্গুর প্রভৃতি) উত্পাদনের জন্য অক্সিন প্রয়োগ করা হয় । কলম তৈরি:- শাখা কলমের সাহায্যে বংশ বিস্তারের জন্য নানান ফুল ও ফলের গাছে অক্সিন প্রয়োগ করে দ্রুত সৃষ্টি করা হয় । আগাছা দমন:- চাষের খেতে আগাছা দমনের জন্য কৃত্রিম অক্সিন [2,4-D] ব্যবহার করা হয় । অকাল পতন রোধ:- পাতা, ফুল ও ফলের মোচন অর্থাৎ ঝরে পড়া রোধ করার জন্য কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করা হয় । ক্ষত নিরাময়:- উদ্ভিদ-অঙ্গ (প্রধানত ডালপালা ) ছাঁটার পর ওই অঞ্চলের ক্ষতস্থান পূরণের জন্য কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করা হয়

জিব্বেরেলিন:– অক্সিনের মতো জিব্বেরেলিনও উদ্ভিদের একরকম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন । এটি একরকমের টারপিনয়েড জাতীয় নাইট্রোজেনবিহীন জৈব অম্ল । জিব্বেরেলিন প্রধানত কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে গঠিত । জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক নাম জিব্বেরেলিক অ্যাসিড [GA – Gibberelic acid] । এরা বর্ণহীন ও গন্ধহীন জৈব অ্যাসিড । GA1, GA2, GA3, GA4 …. ইত্যাদি রূপে পাওয়া যায়, তার মধ্যে এঅ৩ কে বেশি কাজে লাগানো হয় । উদ্ভিদের পরিপক্ক বীজ, অঙ্কুরিত চারা, মুকুল, বীজপত্র, বর্ধিষ্ণু পাতা ইত্যাদি থেকে উত্পন্ন টারপিনয়েড জাতীয় যে জৈব অম্ল সমস্ত বিজের সুপ্ত দশা ভঙ্গ করতে, উদ্ভিদের দীর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটাতে এবং ফুল ফোটাতে সাহায্য করে তাদের জিব্বেরেলিন বলে । উৎসস্থল :- জিব্বেরেলিন উদ্ভিদের পরিপক্ক বীজে বেশি উৎপন্ন হয় । তাছাড়া মুকুল, অঙ্কুরিত চারাগাছ, বীজের বীজপত্র এবং পাতার বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে এই হরমোন পাওয়া যায় ।
কাজ :- জিব্বেরেলিনের প্রধান শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি হল : জিব্বেরেলিন খর্বাকার উদ্ভিদের দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি ঘটাতে সাহায্য করে । ইহা সমস্ত রকম উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে । ইহা জিব্বেরেলিন মুকুল এবং বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করে । ইহা পাতা, ফুল, ও ফলের আয়তন বৃদ্ধিতে এবং বীজহীন ফল উত্পাদনে সহায়তা করে । ইহা পুষ্পমুকুল ও কাক্ষিক মুকুলের পরিস্ফুটন ঘটায় । ইহা আঙ্গুর, আপেল, ন্যাসপাতি প্রভৃতি উদ্ভিদের ফল গঠনে জিব্বেরেলিন কার্যকর ।

সাইটোকাইনিন- কাইনিন পিউরিন জাতীয় নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারীয় জৈব পদার্থ । বিভিন্ন বিজ্ঞানী প্রদত্ত এই রকম হরমোনের নামগুলো হল সাইটোকাইনিন, কাইনেটিন, ফাইটোকাইনিন প্রভৃতি । কাইনিন প্রধানত কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে গঠিত । উদ্ভিদের ফল এবং শস্যে উত্পন্ন পিউরিন জাতীয় নাইট্রোজেনযুক্ত যে ক্ষারীয় জৈব পদার্থসমূহ কোষ বিভাজনকে উদ্দীপিত করে, তাদের কাইনিন বা সাইটোকাইনিন বলে । উদ্ভিদের শস্য ও ফলে বেশি পরিমাণে কাইনিন থাকে । টম্যাটো, পীচ, ন্যাসপাতি, কুল প্রভৃতি ফল ও ফুলের নির্যাসে কাইনিন দেখা যায় । ভুট্টার শস্যে ও নারকেলের দুধে বেশি পরিমাণে কাইনিন থাকে । ডাবের জলে কাইনিন পাওয়া যায় ।

সাইটোকাইনিনের কাজ :- কাইনিন উদ্ভিদের কোষ বিভাজনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে । ইহা কোষের বৃদ্ধি ঘটায়। এটি উদ্ভিদের জরা অর্থাৎ বার্ধক্য অবস্থাকে বিলম্বিত করতে সাহায্য করে। মুকুল উত্পাদনে এবং কলমের ক্ষেত্রে মূলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে । অগ্রমুকুলের অবাধ বৃদ্ধি রোধ করে এবং কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে সাহায্য করে । এই হরমোন বিচ্ছিন্ন পাতায় ক্লোরোফিল বিনষ্টিকরণকে বিলম্বিত করে ।

কৃষিকার্যে কৃত্রিম উদ্ভিদ-হরমোনের ব্যবহারিক প্রয়োগ:-
উদ্ভিদদেহে স্বাভাবিক হরমোন উত্পন্ন হলেও বর্তমানে কৃত্রিম হরমোন ও তৈরি হচ্ছে । এই সব কৃত্রিম হরমোনের মধ্যে ইন্ডোল বিউটারিক অ্যাসিড (IBA), ন্যাপথালিন অ্যাসিটিক অ্যাসিড (NAA), ডাই-ক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড (2, 4-D) প্রভৃতি প্রধান । কৃত্রিম হরমোনগুলি কম পরিমাণে বেশি কার্যকরী হওয়ায় আজকাল কৃষিকার্যে এর ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে ।
কৃত্রিম হরমোনের কাজ ও গুরুত্ব:

[১] বীজহীন ফল উৎপাদন:- নিষেকের আগেই অর্থাৎ পরাগযোগ ও নিষেক ছাড়া ডিম্বাশয়ে কৃত্রিম অক্সিন [IBA, IAA] প্রয়োগ করে বীজবিহীন এবং আয়তনে বড় ফল উৎপাদন করা হয় । এই পদ্ধতিকে পার্থেনোকার্পি বলে । এইসব ফলের মধ্যে পেঁপে, পেয়ারা, খেজুর, আঙ্গুর, টম্যাটো, কলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

[২] শাখা কলমে মূল সৃষ্টি:- শাখা কলমের দ্বারা বংশ বিস্তারের সময় নানান কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করে কলমে তাড়াতাড়ি মূল সৃষ্টি করা হয় । গোলাপ, জবা, বেল ইত্যাদি ফুলগাছ এবং আম, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি ফলের গাছের শাখা কলম তৈরি করার সময় IBA এবং NAA বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় ।

[৩] আগাছা নির্মূল:– ধান, গম, যব ইত্যাদির খেতে অবাঞ্ছিত উদ্ভিদ অর্থাৎ আগাছা নির্মূল করার জন্য 2,4-D,  MCAA ( মিথাইল ক্লোরোফেনক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড ) প্রভৃতি কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করা হয়। কারণ কৃষিকার্যে আগাছাগুলি হল বাঞ্ছিত উদ্ভিদের প্রধান শক্র ।

[৪] ক্ষতস্থান পূরণ:– চা, পাতাবাহার, আপেল, ন্যাসপাতি, ইত্যাদি গাছের ডাল ছাঁটার পর বেশি ঘনত্বের কৃত্রিম অক্সিন অর্থাৎ ওঅঅ (১%) দ্রবণ ছিটিয়ে ওই সমস্ত ক্ষতস্থান মেরামত করা হয় । এর ফলে ক্ষতস্থান রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে না ।

[৫] উদ্ভিদের অপরিণত অঙ্গের মোচন রোধ:– কৃত্রিম হরমোনের (2, 4-D, NAA) দ্রবণ ছিটিয়ে উদ্ভিদের নানান অপরিণত অঙ্গের (যেমন: পাতা, মুকুল, ফুল, ফল ইত্যাদি ) অকালমোচন রোধ করা হয় ।

[৬] অঙ্কুরোদ্গম ত্বরান্বিত করা:- কৃত্রিম জিব্বেরেলিন প্রয়োগের দ্বারা বীজের সুপ্ত অবস্থা ভঙ্গ করে দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম ঘটানো হয়

[৭] মূকুলোদ্গম বিলম্বিত করা:- অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড প্রয়োগ করে আলু, পেঁয়াজ ইত্যাদির মূকুলোদ্গম বিলম্বিত করা হয় ।

[৮] ফল ধরতে সহায়তা করা:- আনারস, লেবু, আপেল, ইত্যাদি গাছের কৃত্রিম হরমোন ছিটিয়ে গাছের ফল ধারণ ক্ষমতাকে ত্বরান্বিত করা হয় ।

[৯] ফলের বৃদ্ধি ও পরিপক্কতা:- IBA বা 2, 4-D  নামক কৃত্রিম হরমোন প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের আয়তন বৃদ্ধি ও পরিপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করা হয় ।

[১০] পুষ্প পরিস্ফুটনের নিয়ন্ত্রণ:- কৃত্রিম হরমোন (প্রধানত NAA) প্রয়োগ করে উদ্ভিদের পুষ্প-মুকুলের পরিস্ফুটন ত্বরান্বিত করা হয় । জিব্বেরেলিন প্রয়োগ করে দ্বি-বর্ষজীবী উদ্ভিদের প্রথম বছরে ফুল উত্পন্ন করা হয় ।

অক্সিনের প্রভাবে গাছের শাখা প্রশাখা, ফুল ফল বৃদ্ধি হয় এবং ফলের পরিপক্কতা ঘটায়। তাছাড়া এবসিশন লেয়ার তৈরিতে বাধা দেয় ফলে পাতা ফুল ফল ঝরা রোধ করে। সাইটোকাইনিন কার্বন আত্নীকরণে ভূমিকা পালন করে। জিবরেলিন মূলত গাছের লম্বায় বৃদ্ধিতে তাছাড়া ফুল ফল ধারনে সহায়তা করে। ইথিলিন ফলকে সমভাবে পাকাতে সহায়তা করে। গ্রীষ্মকালীন টমেটোতে টমাটন নামে একটি হরমোন ব্যবহার করা হয় যা মূলত গাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ফল ধারনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

হরমোন বা ফসল উজ্জীবকগুলোর মধ্যে ইথরেল বা ফ্লোরা মূলত প্রতি লিটার পানির সাথে ২ মিলি মিশিয়ে গাছের পাতায় ও ফলে স্প্রে করতে হয়। এনএএ বা আইএএ এর জন্য ২০০ পিপিএম দ্রবণ পাতায় স্প্রে করতে হয়। আইবিএ ১০০ পিপিএম পরিমাণ দ্রবণ পাতায় স্প্রে করতে হয়। জিএ৩ মূলত ৫০ পিপিএম পরিমাণ পাতায়, ইথিফোন ১-২ গ্রাম পরিমাণ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে পাতায় এবং ২,৪-ডি ২০ পিপিএম পরিমাণ নিয়ে পাতায় স্প্রে করতে হয়।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.