- Advertisement -

সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন (২৮ মার্চ-০৩ এপ্রিল ২০২০)

179

- Advertisement -

 

কৃষিতে বারহাট্টা: সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন
(২৮ মার্চ – ০৩ এপ্রিল ২০২০)

সমগ্র পৃথিবী তথা প্রিয় বাংলাদেশ একটা সংকটময় সময় অতিবাহিত করছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন আমাদের শংকিত করছে। করোনা ভাইরাস প্রতিহত করতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সচেতনতাই পারে করোনা ভাইরাস ঠেকাতে। তাই নিজে সচেতন হউন; অন্যকেও সচেতন হতে উৎসাহিত করুন। কৃষকের স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা কৃষি বিভাগ দারুণ চিন্তিত। কৃষক ভাইয়েরা আপনারাও সচেতন হউন, নিরাপদ থাকুন। মাঠে এখন বোরোধানসহ আরোও গুরুত্বপূর্ণ ফসল রয়েছে। এসপ্তাহে কৃষিতে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিগুলো জেনে নেই।

মাঠে অধিকাংশ বোরোধান ক্ষেত সর্ব্বোচ্চ কুশি থেকে থোর পর্যায়ে রয়েছে। জমি বুঝে, ইউরিয়া সারের ৩য় কিস্তি উপরিপ্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কাইচথোর থেকে থোর অবস্থায় জমিতে ২ থেকে ৫ সেমি বা চার আঙ্গুল পরিমান পানি রাখতে হবে। বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ নিয়ন্ত্রণে জমিতে কাইচ থোর আসার আগেই নাটিভো ৬ গ্রাম/ ট্রপার ৮ গ্রাম/দিফা ৮ গ্রাম/ব্লাস্টিন ৬ গ্রাম পরিমাণ ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করে দিতে হবে। ০৭ দিন পর আরোও একবার স্প্রে করতে হবে। ধানের বিএলবি রোগ মুক্তির জন্য বিঘা প্রতি ৫ কেজি হারে এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। বোরো ধানচাষে টনিক ফর্মুলা,কাইচথোর আসার আগ মুহুর্তে জমিতে ৬০ গ্রাম এমওপি সার + ৬০ গ্রাম থিয়োবিট + ১০ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করা। বিপিএইচ পোকা নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ নিন।

এখন পাটের বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। পাট চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি নির্বাচন করুন। আড়াআড়ি ৫-৬ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করে নিতে হবে। তোষা পাটের আঁশের গুণগতমান ও দাম ভালো তাই তোষা জাতের পাট চাষ করতে পারেন।

বৃষ্টি নির্ভর উফশী আউশ আবাদ করতে পারেন। এখনই আউশ বীজতলা তৈরির সময়। তাই ব্রি ধান৪৮, বিনা ধান১৯ জাতের বীজ দ্রুত সংগ্রহ করুন। আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন করুন। আউশের হালিচারা ২০-২৫ দিনের মধ্যে রোপন করা উচিত।

গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদনের এখনই সময়। এ সময় বসতবাড়ীসহ মূল জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জমি তৈরি করে ডাঁটা, কলমিশাক, পুঁইশাক, করলা, ঢেঁড়স, বেগুন, পটল চাষের উদ্যোগ নিতে পারেন। তাছাড়া মাদা তৈরি করে চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুন্দুল, শশা, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়ার বীজ বুনে দিন। ইতোমধ্যে আবাদকৃত সবজি বাগানের পর্যাপ্ত পরিচর্যা নিন।

শাকসবজি চাষে আগাছা পরিস্কার, নিয়মিত পানি দেয়া, বাউনি দেয়া ও পর্যাপ্ত ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করুন। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সেক্স ফেরোমন ট্রেপ, জৈব বালাইনাশক ও বিষ টোপ ব্যবহার করুন।

আম ও লিচু গাছের গুটিগুলো মটর দানা থেকে মার্বেল দানার পর্যায়ে থাকলে বালাইনাশক স্প্রে করতে পারেন। ফলের গুটি ঝরা রোধে সলোবর/সলোবোরণ/বিংগু স্প্রে করতে পারেন।

ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আগেই পরিপক্ক গম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, তেল ও ডাল ফসল ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করে শুকিয়ে যথাযথভাবে সংগ্রহ করতে হবে। এ সময় জমিতে সবুজ সার ফসল বিশেষ করে ধৈঞ্চা চাষের উদ্যোগ নিতে পারেন।

একটু মনোযোগ দিবেন…
করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই। কৃষক ভাই আপনি সুস্থ থাকলে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে; বাংলার মা, মাটি ও মানুষ ভালো থাকবে। তাই আপনার সুস্থ থাকাটা খুবই প্রয়োজন।

“সাবান ও পানি দ্বারা ঘনঘন হাত ধুয়ে নিন, সুস্থ থাকুন”

“বাংলার মাটি সোনার খনি, অনাবাদি থাকবে না কোন জমি”

“কৃষিই সমৃদ্ধি, কৃষিই আপনার অস্তিত্বের ধারক”

কৃষিবিদ মোহাইমিন

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.