- Advertisement -

বারি সরিষা-১১ এর চাষাবাদ কৌশল

সরিষা উৎপাদন

543

- Advertisement -

বারি সরিষা-১১ এর চাষাবাদ কৌশল

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনে তেল ফসল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবাদি তেল ফসলসমূহের মধ্যে সরিষা, তিল, গর্জন, চীনাবাদাম, তিসি, সূর্যমূখী, কুসুম ফুল ও সয়াবীন। প্রায় ৪.৮৬ লাখ হেক্টর জমিতে এসব ফসলের চাষ হয় এবং প্রায় ৬.৬১ লাখ মে. টন ভোজ্য তেল উৎপাদিত হয়। এ উৎপাদন দেশের প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর প্রায় ১২ শত কোটি টাকার তেল আমদানী করতে হয়। তেলের ঘাটতি পূরণের জন্য দেশে তেল ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউট হতে দেশে চাষ উপযোগী প্রায় ১৬ টি সরিষার জাত উদ্ভাবন করেছে। আজ আমি বারি সরিষা-১১ এর চাষাবাদ কৌশল নিয়ে আলোচনা করব।

বারি সরিষা-১১ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
দেশের ভেতরে ও বিদেশ থেকে সংগৃহীত জার্মপ্লাজম হতে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবিত হয় এবং ২০০১ সালে অনুমোদন লাভ করে। এটি ব্রাসিকা জুনসিয়া প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত।

গাছের উচ্চতা ১২০-১৩০ সেমি। গাছে ৩-৫টি প্রাথমিক শাখা থাকে। পাতা বোটাযুক্ত ও খসখসে এবং সবুজ রঙের। শাখাগুলি মাটির একটি উপরে প্রধান কান্ড থেকে বের হয়। প্রস্ফুটিত ফুল কুড়ির নিচে থাকে। ফুলের রং হলুদ। প্রতি গাছে ফলের সংখ্যা ৭৫-১৫০ টি। ফল ২ কক্ষ বিশিষ্ট। প্রতি ফলে বীজের সংখ্যা ১২-১৫টি। বীজের রং পিঙ্গল।
হাজার বীজের ওজন ৩.৫-৪.০ গ্রাম। ফসল ১০৫-১১০ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়।
১. আমন ধান কাটার পর এ জাতটি নাবি জাত হিসেবে চাষ করা যায়।
২.  জাতটি খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল।

সরিষার উৎপাদন পদ্ধতি
মাটি
বেলে দোআশ ও দোতাশ মাটিতে ভাল হয়।
জমি তৈরি
জমির প্রকারভেদে ৪-৫ টি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি তৈরি করতে হবে। জমির চারপাশে নালার ব্যবস্থা করলে পরবর্তীকালে সেচ এবং পানি নিকাশের সুবিধা হয়।
বপন পদ্ধতি
সরিষা বীজ সাধারণত ছিটিয়ে বোনা হয়। সারি করে বুনলে সার, সেচ ও নিড়ানি দিতে সুবিধা হয়। সারি থেকে সারির দুরত্ব ৩০ সেমি রাখতে হবে। বপনের সময় জমিতে বীজের অঙ্কুরোদগমের উপযোগী রস থাকতে হবে।
বীজের হার
প্রতি হেক্টরে ৬-৭ কেজি বীজ লাগে।
বপনের সময়
বারি সরিষা-১১ কার্তিক থেকে অগ্রহায়ন মাস পর্যন্ত বপন করা যেতে পারে। তবে(মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর) অর্থাৎ কার্তিক মাস সরিষা বপনের উৎকৃষ্ট সময়।
সেচ প্রয়োগ
পানি সেচ দিলে ফলন বেশি হয়। বীজ বপনের ২০-২৫ দিনের মধ্যে(গাছে ফুল আসার আগে) প্রথম সেচ এবং ৫০-৫৫ দিনের মধ্যে (ফল ধরার সময়) দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। বপনের সময় মাটিতে রস কম থাকলে চারা গজানোর ১০-১৫ দিনের মধ্যে একটি হালকা সেচ দিতে হয়।

সারের পরিমান
জাত, মাটি ও মাটিতে রসের তারতম্য অনুসারে সার দিতে হবে। সার সুপারিশমালা মতে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টিএসপি, ১২ কেজি এমওপি, ২০ কেজি জিপসাম, ১.৮ কেজি বোরন সার এবং প্রায় ১৫০০ কেজি পচা গোবর ব্যবহার করা উচিত। ইউরিয়া সার অর্ধেক ও অন্যান্য সার বীজ বপনের আগে এবং বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সার গাছে ফুল আসার সময় উপরি প্রয়োগ করতে হবে। সার উপরি প্রয়োগের সময় মাটিতে রস থাকা প্রয়োজন।

অর্ন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা:

জাব পোকার ব্যবস্থাপনা
পাতা, কান্ড, পুষ্পমন্জুরী, ফুল ও ফল থেকে রস চুসে খায়। গাছ দুর্বল হয় ফলন কম হয়। এডমায়ার ২০০এসএল (ম্যালাথিয়ন) ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকাল ৩ টার পর ১০ দিন পরপর ২ বার ছিটাতে হবে।

কাটুই পোকার ব্যবস্থাপনা
চারা অবস্থায় গোড়া কাটে ও পাতা খেয়ে প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। দিনে মাটির ভিতর লুকিয়ে থাকে এবং রাতে লাখ লাখ কীড়া দলবদ্ধভাবে ফসলে আক্রমন করে । আলোর ফাদ ও সেক্স ফেরোমন ট্রেপ দ্বারা মথ ধরা যায়। রিপকর্ড/সিমবুশ বা ডারসবান ২০ইসি ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করে পোকা দমন করা যায়।
ফসল সংগ্রহ
ফসল ১০৫-১১০ দিনে পাকে। প্রতি হেক্টরে ২.০-২.৫ টন ফলন পাওয়া যায়।

সিলেট অঞ্চলের কৃষি প্রকৃতি একটু ভিন্ন ধরনের। এই অঞ্চলের মাটি অম্লীয় বা এসিডিক, তাছাড়া শীত মৌসুমে মাটিতে পানির খুব অভাব থাকে। এমন অবস্থায় বারি সরিষা-১১ চাষ করতে হলে-
১. জমিতে শতক প্রতি ৪ কেজি হারে ডলোচুন ব্যবহার করতে হবে।
২. খরা সহনশীল জাত যেমন বারি সরিষা-১১ চাষ করতে হবে।
৩. সারি পদ্ধতি বা বেড পদ্ধতিতে বপন করতে হবে।
৪. সেচ দেওয়া বা পানি নিষ্কাশনের জন্য অবশ্যই বেডের চারপাশে নালা তৈরি করতে হবে।
৫. ফুল আসার সময় সেচ ও সার প্রয়োগ করতে হবে।
৬. জমিতে পরিমিত মাত্রায় বোরন সার ব্যবহার করতে হবে।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.