- Advertisement -

ম্যাজিক কৌশল: হাত পরাগায়ন

224

- Advertisement -

 

ম্যাজিক কৌশল: হাত পরাগায়ন

মাঠে পর্যায়ে কাজ করায় যেসব সমস্যাগুলো কৃষক বিশেষ করে মহিলা কৃষকদের কাছ থেকে পাই তার মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন লাউগাছে এতো ফুল ধরে অথচ আশানুরুপ ফল ধরে না বা ফল পচে যায় কেন? অধিকাংশ কেস স্টাডি থেকে দেখা যায়, সমস্যা একটাই তা হলো পরাগায়ন না হওয়া। একই সময়ে পুরুষ ফুল ও স্ত্রী ফুল না জন্মানো ফলে পরাগায়নের সমস্যা তৈরি হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় বালাইনাশক স্প্রে করার ফলে মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ পলিনেটর তথা মৌমাছি না থাকাও তার কারণ। উত্তরে ম্যাজিক কৌশল তথা হাত পরাগায়ন কৌশলটি প্রতিপালন করতে বলি। হাত পরাগায়ন কৌশলটি একটি পরীক্ষিত বাস্তব সম্মত পরিবেশবান্ধব কৌশল।

হাত পরাগায়ন কলাকৌশলের বিস্তারিত আলোচনায় আমরা পাই। পুরুষ ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু বের হয়ে যে প্রক্রিয়ায় স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হয় তাকে পরাগায়ণ বলে। পরাগায়ণ সঠিকভাবে হলে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। একই ফুলে যদি পুং ও স্ত্রী জননাঙ্গ থাকে তবে তাকে উভলিঙ্গী ফুল এবং যদি যে কোন একটি থাকে তবে তাকে একলিঙ্গী ফুল বলে। পরাগায়ণের উপর নির্ভর করে আমরা উদ্ভিদকে স্বপরাগী বা পরপরাগী বলে থাকি। একলিঙ্গী ফুলে পরপরাগায়ণ অবশ্যম্ভাবী, তবে উভলিঙ্গী ফুলেও পরাপরাগায়ন হয়ে থাকে।

পরাগায়ণ এর কাজটি প্রাকৃতিকভাবেই হয়ে থাকে। বাতাস, পোকা, জল, প্রাণি ইত্যাদি দ্বারা পরাগায়ণ হয়ে থাকে। পরাগায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে মৌমাছি ও বোলতা। সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করলে সরিষার ফলন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, পাশাপাশিভাবে বিনা খরচে উৎকৃষ্ট মানের মধু পাওয়া যায়। তবে মৌমাছি ও বোলতারা কীটনাশকের প্রতি প্রবল সংবেদনশীল। কীটনাশকের স্পর্শ এমনকি গন্ধ পেলেও এরা মারা যায় বা দূরে চলে যায়। এদের অভাবের করণে প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়ণে সমস্যা দেখা যায় বিধায় হস্ত পরাগায়ণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

হাত দ্বারা যে পরাগায়ণ হয়ে থাকে হস্ত পরাগায়ন বলে। অর্থাৎ হাত দিয়ে পুরুষ ফুলের পরাগরেণু স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে স্থাপন করাকে হস্ত পরাগায়ণ বলে।

হস্ত পরাগায়ন লাউ জাতীয় ফসলে বেশী জরুরি। শীত লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পটল, কাকরোল, চিচিংগা, ধুন্দল, ঝিঙ্গা, শশা, করলা ইত্যাদি লাউ জাতীয় ফসলে হস্ত পরাগায়ন করলে ফলন বৃদ্ধি পায়। এসব ফসলে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

পুরুষ ফুলের পাপড়িগুলো ফেলে দিয়ে পুংদন্ডটিকে নিয়ে সদ্য ফোটা স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে লাগাতে হয়। এভাবে একটি পুংদন্ড দিয়ে ৪-৮ টি স্ত্রী ফুলের পরাগায়ণ করা যায়যখন পুরুষ ফুলের সংখ্যা কম থাকে তখন ০.১% চিনির দ্রবণে পুরুষ ফুলের পরাগধানী ছিড়ে ভাল করে মিশিয়ে ড্রপারের সাহায়্যে স্ত্রীফুলের গর্ভমুন্ডে দিতে হয়। এক্ষেত্রে ১ টি পুরুষ ফুলের পরাগরেণু দিয়ে ২০ টি স্ত্রীফুল পরাগায়ণ করা যায়।

প্রত্যেকটি ফসলের পরাগায়ণের জন্য আলাদা আলাদা সময় প্রয়োজন। সবসময় ফুলের গর্ভমুন্ড পরাগরেণু ধারণ করেনা। যখন গর্ভমুন্ড আঠালো অবস্থায় থাকে তখন হস্ত পরাগায়ণ করতে হয়। যেমন শশা ও মিষ্টি কুমড়া সকাল ৯ টায়, চাল কুমড়া সকাল ১০ঃ৩০ টায়, শীত লাউ এ মধ্য দুপুরে। শীত লাউয়ে সূর্য আলোকিত দিনে মধ্য দুপুরে পরাগায়ন করতে হয়। বাকীগুলো সকাল ৯ টার মধ্যে হস্ত পরাগায়ন শেষ করতে হয়। করলা খুব সকালে পরাগধানী ফাটে, গর্ভমুন্ড ১০ ঘন্টা পর্যন্ত আঠালো থাকে। করলার বেলায় সকাল ১০ঃ৩০ টার মধ্যে হস্ত পরাগায়ন শেষ করতে হয়।

কাঁঠালের এবড়ো থেবড়ো হওয়ার মূল কারণ ভাল পরাগায়ন না হওয়া। কারণ কাঁঠাল একটি যৌগিক ফুল। সেক্ষেত্রে একটি কাঠিতে তুলা পেচিয়ে তা খুব সকালে পুরুষ ফুল বা মঞ্জিতে ঘসে নিয়ে তা স্ত্রী ফুলে ঘষে দিলে কাঁঠাল গোল হয় এবং কোয়ার সংখ্যা বেশী হয়।

সংকলন: কৃষিবিদ মোহাইমিন

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.