- Advertisement -

মাশরুম চাষ

মাশরুম চাষাবাদ

983

- Advertisement -

 

মাশরুম চাষাবাদ কৌশল

কৃষিবিদ মোহাইমিন

মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক। মাশরুম খু্বই সুস্বাদু পুষ্টিকর, বহুবিদ ঔষধীগুণ সম্পন্ন সব্জী।  টিস্যুকালচারের কল্যাণে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে মাশরুম চাষ করা যায়।  উন্নত দেশে একজন সুস্থ লোক প্রতি দিন ৪৫০-৫৫০ গ্রাম সব্জী খেয়ে থাকেন। এফএও এর রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের দেশের একজন সুস্থ লোক প্রতি দিন ২০০-২৫০ গ্রাম সব্জী খাওয়া প্রয়োজন কিন্তু আমাদের দেশের লোকজন গড়ে প্রতিদিন আলু ছাড়া ৪৫-৫০ গ্রাম সব্জী খেয়ে থাকেন। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষিবিদ  ও কৃষি গবেষকরা বিকল্প কৃষি ব্যবস্থাপনারে দিকে ধাবিত হচ্ছে। কৃষিতে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করছে। মাশরুম অন্যতম একটি অাধুনিক প্রযুক্তি। মাশরুম চাষে আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না, ঘরের মধ্যে চাষ করা যায়, তাকে তাকে সাজিয়ে একটি ঘরকে কয়েকটি ঘরের সমান ব্যবহার করা যায় এবং খুব অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যে মাশরুম পাওয়া যায় যা বিশ্বে আর কোন ফসলের বেলায় প্রযোজ্য নয়। মাশরুম চাষ একটি সর্বোত্তম লাভজনক ব্যবসা। 

মাশরুম চাষ পদ্ধতি– ল্যাবরেটরীতে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে মাশরুমের বীজ উৎপাদন করা হয়। সেখান থেকে মাদার কালচার বা বানিজ্যিক বীজ সংগ্রহ করে খুব সহজেই মাশরুম চাষ করা যায়। মৌসুমের উপর ভিত্তি করে মাশরুমকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন মাশরুম, শীতকালীন মাশরুম এবং সারা বৎসর চাষ করা যায় এ ধরনের মাশরুম। সারাবৎসর যে মাশরুম চাষ করা যায় তার নাম ওয়েস্টার মাশরুম। ওয়েস্টার মাশরুম ১৫-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাল জন্মে। যে ঘরে মাশরুম চাষ হবে সে ঘরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, সেমি পাকা বা পাকা মেঝযুক্ত এবং যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এ ধরনের ঘর হতে হবে। মাশরুম চাষের ঘর তৈরির জন্য ৫টি বিষয়কে মূলনীতি হিসেবে ধরা হয়।

অক্সিজেনের উপস্থিতি ছত্রাক মূলত: কাঁঠের গুড়া থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। মাশরুম ফুল উৎপাদনের সময় প্রচুর পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। সে সময় কাঁঠের গুড়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য সহজলভ্য করে। তাই প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় বিধায় অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
আলো মাশরুম চাষের ঘরটি আবছা অন্ধকার হতে হবে। অর্থাৎ খালি চোখে খবরের কাগজ পড়া যায় এমন আলো থাকতে হবে।
তাপমাত্রা মাশরুম যে ঘরে চাষ করা হবে সে ঘরের তাপমাত্র ১৫-৩০ ডিগ্রী  সেলসিয়াস এর মধ্যে রাখতে হবে। এর জন্য ঘরের চালা ছনের হলে ভাল তবে টিনের হলে সিলিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়াও ঘরটি গাছের নীচে হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব হয়।
আর্দ্রতা মাশরুম চাষের ঘরটির আর্দ্রতা ৪০-৪৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে।
মাশরুমের জাত
আমাদের দেশে সারাবছর চাষযোগ্য মাশরুম হলো ওয়েস্টার মাশরুম। শীতকালের জন্য শীতাকে ও বুতাম মাশরুম চাষ করা যায়। তাছাড়া  স্ট্র, মিল্কি ও ঋষি বা ঔষধী মাশরুম যা গ্রীষ্মকালে চাষ করা যায়।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি
বীজ সংগ্রহের পর স্পোন প্যাকেটের কোণাযুক্ত দুই পাশের ঘাড় বরাবর বেশি উপরে বা বেশি নীচে না এমন যায়গায় অর্ধচন্দ্র বা ইংরেজী ডি বড় অক্ষরের মত করে কেটে কিছু অংশ চেছে  দিতে হবে। এতে প্যাকেটের ভিতরের মাশরুমের মাইসেলিয়াম উত্তেজিত হয়। কাটা প্যাকেটকে ৫ মিনিট পানিতে চুবিয়ে পানি ঝরিয়ে বা কাটার পর সরাসরি চাষ ঘরের মেঝে বা তাকের মধ্যে সাজিয়ে রেখে চাষ করা যায়। তার পর চাষ ঘরের আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য দিনে ২-৩ বার বা প্রয়োজনে কমবেশি পানি স্প্রে করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন প্যাকেট ও আশেপাশে ভিজে কিন্তু পানি জমে না থাকে। ২-৩ দিনের মধ্যে মাশরুমের অংকুর পিনের মাথার মত বের হবে। ৫-৭ দিনের মধ্যে মাশরুম তোলার উপযোগী হয়। প্রথম বার মাশরুম তোলার পর প্যাকেট ১ দিন বিশ্রাম অবস্থায় রাখতে হবে এবং পরের দিন কাটা অংশ পুনরায় চামচ দিয়ে চেছে আবার পানি স্প্রে করতে হবে। ১০-১৫ দিন পর পুনরায় মাশরুম সংগ্রহ করা যাবে। এ ভাবে ১ টি প্যাকেট থেকে ৭-৮ বার মাশরুম সংগ্রহ করা যায়।

মাশরুম খুবই স্পর্শকাতর সব্জী। সে জন্য মাশরুম চাষ ঘরের চারপাশ সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে স্যাভলন বা ফিনাইল দিয়ে ঘর পরিস্কার করে নিতে হবে। ঘরে ঢুকতে হলে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় চোপড় পরে ঢুকতে হবে। যে ঘরে মাশরুম চাষ করা হবে সেখানে নিয়মিত সকাল বিকাল প্রয়োজনমত পরিমাণমত পানি স্প্রে হবে। স্পোন প্যাকেটগুলি এমন ভাবে রাখতে হবে যাতে একটি অন্যটির গায়ে না লাগে। গরমের দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ঘরের মেঝে এবং দেয়ালে স্প্রে করে দিয়ে বৃষ্টির মত কয়েকবার ভিজিয়ে দিতে হবে। সম্ভব হলে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ফ্যান বেশিক্ষন না চলে এতে স্পোন বা মাশরুম শুকিয়ে যাবে। মাশরুমের আকার সুন্দর রাখতে চাইলে ৩-৪ দিন পর অতিরিক্ত অংকুর ধারালো ব্লেড দিয়ে প্রোনিং করে দিতে হবে। মাশরুমের সাধারণত: কোন প্রকার পোকা মাকড় বা রোগ বালাই নাই। তবে মাঝে মধ্যে তেলাপোকা, মাছি বা ইঁদুর মাশরুমের ক্ষতি করে।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.