- Advertisement -

ভাসমান বীজতলা তৈরি কলাকৌশল

ভাসমান বীজতলা তৈরি কলাকৌশল

883

- Advertisement -

ভাসমান বীজতলা তৈরি কলাকৌশল

কৃষিবিদ মোহাইমিন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশে বর্ষাকাল শুরুর তারতম্য হচ্ছে। কখনো আগাম বর্ষা আবার কখনো দেরিতে। ফলে বন্যার ক্ষেত্রেও একই কথা। রোপা আমনের ক্ষেত্রে  আগাম বন্যায় আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার জমিতে চারা রোপণের পর নাবি বন্যায় রোপণকৃত জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে কৃষকেরা হালিচারার সংকটে পড়ে যায়, এর ফলে আমন ধান উৎপাদন মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশণায় নির্বিঘ্নে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে আপদকালীন সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ভাসমান বীজতলা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাসমান বীজতলার সুবিধা হলো আপদকালীন সময়ে হালিচারার যোগান নিশ্চিত করা। জলাবদ্ধ এলাকায় নাবিতে চারা রোপণের জন্য সঠিক বয়সের চারা নিশ্চিত করা। কচুরিপানা দ্বারা তৈরি ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত জৈবসার বাড়তি সুবিধা। তাছাড়া ভাসমান বেড থেকে হালিচারা উত্তোলনের পরে ভাসমান সবজি চাষ করা যায়।  জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভাসমান বীজতলা স্থাপনের উপযুক্ত সময়। প্রতিটি ভাসমান বেড ১.০ মিটার থেকে ১.২৫ মিটার প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ মিটার হলে উত্তম । মূলত নাবি জাতের ধান যথা বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪৬ এবং স্থানীয় জাত বিরই, নাইজারশাইল, গাইঞ্জা, গড়িয়া, পরাঙ্গি, সাইট্যা, তুলশিমালা এসব জাতের ধানের বীজ বপন করা হয়।

ভাসমান বীজতলায় দুইটি পদ্ধতিতে রোপা আমনের চারা তৈরি করা যায়।

প্রথমত কলার ভেলায় ভাসমান  বীজতলা  বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে তবে বন্যার পানি নদীর পানি, বিলের পানি, পুকুরের পানি, ডোবা বা খালের পানি ওপর কলাগাছের ভেলার ওপর হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি করে কিংবা বাঁশ এবং বাঁশের চাটাইয়ের মাচা দিয়ে তৈরিকৃত বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমান পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা যায়।

দ্বিতীয়ত বিল ঝিল বা নিচু জায়গায় কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বীজতলা করা যায়। প্রথমে কচুরিপানাগুলো স্তুপ করে সুন্দরভাবে সাজিয়ে বেড আকৃতি করা হয়। বেডের চারপাশে জড়িয়ে থাকা বাড়তি কচুরিপানাগুলো দা দিয়ে কেটে সোজা করে নিতে হয়। অত:পর বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে সমান করে বীজতলা তৈরি করা হয়।
বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সেজন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখতে হবে। তাছাড়া হাঁসের আক্রমন থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য জাল দ্বারা বেড়া দিয়ে দিতে হবে।

ভাসমান বীজতলা
ভাসমান বীজতলা

এরপর মাটির আস্তরণের ওপর অঙ্কুরিত বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। ভাসমান বীজতলার ক্ষেত্রে অন্য স্বাভাবিক বীজতলার মতোই বীজের হার প্রতি বর্গমিটারে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম হবে। এক্ষেত্রে এক বিঘা জমি রোপণের জন্য ৩৫ বর্গমিটার বা প্রায় ১ শতক ভাসমান বীজতলা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা উঠিয়ে মাঠে রোপণ করা যেতে পারে। এভাবে তৈরি চারা অন্য সব স্বাভাবিক চারার মতোই রোপণ করতে হবে। ভাসমান বীজতলায় পরিচর্যা হিসেবে নিয়মিত পরিদর্শন করা, পানিতে ভাসমান থাকার জন্য এ বীজতলায় সাধারণত সেচের দরকার হয় না, তবে মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে ছিটিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে। বীজতলায় থ্রিপস পোকার আক্রমন হলে প্রয়োজনীয় মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করা উচিত। প্রয়োজনে সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া সার ও থিওবিট স্প্রে করা যেতে পারে। এভাবে উৎপাদিত চারা অন্য সব স্বাভাবিক চারার মতোই ফলন দেয়।

 

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.