- Advertisement -

বোরো ধানের জাত নির্বাচন, আদর্শ বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যা

বোরো ধানের বীজতলা

1,445

- Advertisement -

 

বোরো ধানের জাত নির্বাচন, আদর্শ বীজতলা তৈরি ও পরিচর্যা

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

বীজতলাকে বলা হয় চারা গাছের বিছানা। চারা গাছকে খুব যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করতে হয়। এই জন্য আদর্শ বীজতলায় চারা গাছ তৈরি করতে হয়। আদর্শ বীজতলায় ‍উৎপাদিত চারা শক্তিশালী হয়। যা পরবর্তী অধিক সংখ্যক সক্রিয় কুশি তৈরি করে। ফলে ফলন বেড়ে যায়।

বীজতলা তৈরি

দোআঁশ ও এঁটেল মাটি বীজতলার জন্য ভাল। বীজতলার জমি উর্বর হওয়া প্রয়োজন। যদি জমি অনুর্বর হয় তাহলে প্রতি বর্গমিটার জমিতে দুই কেজি হারে জৈব সার (পচা গোবর বা আবর্জনা) সুন্দরভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর জমিতে ৫-৬ সেন্টিমিটার (প্রায় ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চি) পানি দিয়ে দু’তিনটি চাষ ও মই দিয়ে ৭-১০ দিন রেখে দিতে হবে এবং পানি ভালভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে। আগাছা, খড় ইত্যাদি পচে গেলে আবার চাষ ও মই দিয়ে কাদা করে জমি তৈরি করতে হবে। এবার জমির দৈর্ঘ্য বরাবর এক মিটার চওড়া বেড তৈরি করতে হবে। দু’বেডের মাঝে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার (প্রায় ১ ফুট) জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। নির্ধারিত জমির দু’পাশের মাটি দিয়ে বেড তৈরি করা যায়। এরপর বেডের উপরের মাটি বাঁশ বা কাঠের চেপটা লাঠি দিয়ে সমান করতে হবে। বেড তৈরির ৩/৪ ঘন্টা পর বীজ বোনা উচিত। বীজতলা তৈরির জন্য দু’বেডের মাঝে যে নালা তৈরি হয় তা খুবই প্রয়োজন। এ নালা যেমন সেচের কাজে লাগে তেমনি পানি নিস্কাশন বা প্রয়োজনে সার/ওষুধ ইত্যাদি প্রয়োগ করা সহজ হয়।

জাত নির্বাচন
ভাল বীজে ভাল ফসল। ভাল বীজ বলতে সুস্থ সবল, রোগ জীবাণু মুক্ত, পরিস্কার, আগাছার বীজ মুক্ত এবং অংকুরোদগম কমপক্ষে ৮০ ভাগ হতে হবে। বীজ নির্বাচন করার সময় অবশ্যই মূল জমির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। সাধারণত উচু, মাঝারি উচু জমিতে আমরা ব্রি ধান২৮, ব্রি ধান২৯, ব্রি ধান৫৮ ইত্যাদি ধানের বীজ নির্বাচন করতে হবে। নিচু জমি বিশেষ করে হাওড়ের তলায়, বা বন্যা বা বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা হয় এরকম জমিতে কখনোই ব্রি ধান২৯ লাগাবেন না। বরং ব্রি ধান২৮ এই জমি গুলোর জন্য ভালো। আমরা কৃষক নিজেদেরকেই বীজ রাখতে পরামর্শ দেই। তারপরও বিশ্বস্থ হিসেবে বিএডিসি সরবরাহকৃত বীজ সংগ্রহ করে। বীজ বাছাই ও শোধনের পর বীজ জাগ দিতে হবে।

বীজতলায় বপন
সতেজ ও সবল চারা সবাই চায়। তাই বীজ বাছাইকরণের আগেই বীজের ওজন করে নিতে হবে। প্রতি বর্গমিটার (প্রায় ৩.৫ ফুট X ৩.৫ ফুট) বেডে ৮০-১০০ গ্রাম বীজ বোনা দরকার। সে অনুযায়ী অঙ্কুরিত বীজ বেডের উপর সমানভাবে বুনে দিতে হবে। বীজ বেডের উপর থাকে বলে পাখিদের নজরে পড়ে। তাই বপনের সময় থেকে ৪/৫ দিন পর্যন্ত পাহারা দিয়ে পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নালা ভর্তি করে পানি রাখতে হবে।

অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বীজতলার যত্ন
শৈত্য প্রবাহের সময় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিলে, বীজতলার পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিলে, প্রতিদিন সকালে চারার উপর জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিলে চারা ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে রক্ষা পায় এবং স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে।

সাধারণ পরিচর্যা
বীজতলায় সব সময় নালা ভর্তি পানি রাখা উচিত। বীজ গজানোর ৪-৫ দিন পর বেডের উপর ২-৩ সেন্টিমিটার (প্রায় ১ ইঞ্চি) পানি রাখলে আগাছা ও পাখির আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলে ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতি থেকে চারা রক্ষা পায় এবং চারার বাড়-বাড়তি ভাল হয়। চারাগাছ হলদে হয়ে গেলে প্রতি বর্গমিটারে ৭ গ্রাম করে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করলেই চলে। ইউরিয়া প্রয়োগের পর চারা সবুজ না হলে গন্ধকের অভাব হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তখন প্রতি বর্গমিটারে (প্রায় ৩.৫ ফুট X ৩.৫ ফুট) ১০ গ্রাম করে জিপসাম সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগের পর বীজতলার পানি ধরে রাখা উচিত।

চারা উঠানো
বীজতলায় বেশি করে পানি দিয়ে বেডের মাটি নরম করে নিতে হবে। এমনভাবে চারা উঠাতে হবে যেন চারার কাণ্ড মুচড়ে বা ভেঙ্গে না যায়। চারা উঠানোর পর ওই চারার পাতা দিয়ে বান্ডিল বাঁধাও উচিত নয়। শুকনো খড় ভিজিয়ে নিয়ে বান্ডিল বাঁধতে হবে।

চারা বহন
বীজতলা থেকে রোপণের জন্য চারা বহন করার সময় পাতা ও কাণ্ড মোড়ানো পরিহার করতে হবে। এজন্য ঝুড়ি বা টুকরিতে সারি করে সাজিয়ে পরিবহন করা উচিত। বস্তাবন্দী করে ধানের চারা কোনক্রমেই বহন করা উচিত নয়।

……….

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.