- Advertisement -

বারহাট্টার ডাব বেগুন দুনিয়া মাতানোর অপেক্ষায়!

3,605

- Advertisement -

 

ডাব বেগুনের বড়া ও ভর্তা এতোটাই মজাদার, যে খাবে আরো চাইবে, নিশ্চয় চাইবে। বেগুনের আকৃতিটা ডাবের মতোই বিধায় ডাব বেগুন নামে পরিচিত। বর্ণে, স্বাদে অনন্য। শারীরিক গঠনই তাকে সুউচ্চ জায়গায় আসীন করেছে। অন্যান্য বেগুনের চেয়ে ডাব বেগুনের গঠন আকৃতিতে একটু ভিন্নতা রয়েছে। ডাব বেগুন খেতে বেজায় সুস্বাদু ও মুখরোচক সবজি। এই বেগুনটি সাধারণত বরা বা ভর্তা করে খাওয়া হয়। চাষাবাদের কলাকৌশল সাধারণ বেগুনের মতই। বেডে চারা তৈরি করে মূল জমিতে চারা রোপন করা হয়। বারহাট্টার কৃষকেরা মূলত আশি^ন মাসের ১ম সপ্তাহ থেকেই বীজতলায় বীজ বপন করা শুরু করে। ১৫ ই কার্তিক পর্যন্ত বীজতলায় বীজ ফেলা হয়। সাধারণত ৩০ দিনের চারা মূল জমিতে রোপণ করা হয়। মূল জমিতে রোপনের পর পরিচর্যার বিকল্প নাই। পর্যাপ্ত পরিমান জৈবসার ডাব বেগুন গাছের প্রাণ।

বারহাট্টা উপজেলার জনপ্রিয় এ জাতটি বেশ কয়েক বছর ধরে আবাদ হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, বারহাট্টা উপজেলা সিংধা ইউনিয়নের মল্লিকপুর, ধারাম, নুরুল্লারচর, সিংধা গ্রামে; বারহাট্টা ইউনিয়নের নোয়াগাও, বীরপাগলি, জিথন গ্রামে এমনকি রায়পুর ইউনিয়নের বাট্টাপাড়া, কর্ণপুর গ্রামের কৃষকেরা ডাব বেগুন চাষ করছে। বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ৩০ একর জমিতে ডাব বেগুন আবাদ হয়ে থাকে। বাজার মূল্য অধিক ও চাহিদা থাকায় দিনদিন এই জাতের বেগুনের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একটি গাছে গড়ে ৫-৭ কেজি ডাব বেগুন হয়ে থাকে। প্রতিকেজি ডাব বেগুনের পাইকারি বাজার মূল্য ৪০-৫০ টাকা। অর্থ্যাৎ ১৬০০-২০০০ টাকা মণ। বারহাট্টার অতিথপুর বাজার ও আমঘাইল বাজার থেকে প্রতিনিয়ত ছোট ট্রাক ভর্তি করে এই বেগুন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। প্রতিটি ডাব বেগুনের ওজন গড়ে ৫০০-৮০০ গ্রাম হয়ে থাকে। কৃষকের তথ্য মতে মাঝে মধ্যে ১২০০ গ্রাম পর্যন্তও হয়ে থাকে। কৃষকেরা নিজেরাই স্থানীয়ভাবে জাতটির বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে।

ডাব বেগুনের আকার আকৃতি, রং বর্ণের সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর আর স্বাদে অতুলনীয় বিধায় বেগুনটি বিদেশে রপ্তানি করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। অনন্য জাতটি নিয়ে বিস্তর গবেষণার সুযোগ রয়েছে বলে মনে হয়। (চলমান)

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.