- Advertisement -

বাকানী রোগ ও তার ব্যবস্থাপনা

1,267

- Advertisement -

বাকানি রোগ ও তার ব্যবস্থাপনা
বাকানি ছত্রাকজণিত রোগ। রোগটি মূলত বীজবাহিত। এই রোগটি ১৮৯৮ সনে সর্বপ্রথম জাপানে দেখা যায়। জাপানি ভাষায় এই রোগটিকে ধানের বোকা কুশি/চারা নামে পরিচিত। মূলত ফিউজারিয়াম মনিলিফরমি নামক ছত্রাকের আক্রমনে রোগটি হয়ে থাকে। ছত্রাকটির আক্রমনে ধান গাছের টিস্যুতে জিবরেলিক এসিডের আধিক্যতা দেখা দেয়, যা কুশি লম্বা ও লিকলিকে হওয়ার জন্য দায়ী। তাছাড়া অধিক হারে ইউরিয়া সার ব্যবহার এই রোগের প্রার্দুভাব বাড়িয়ে দেয়।

লক্ষণ

আক্রান্ত কুশি দ্রুত বেড়ে অন্য গাছের তুলনায় খানিকটা লম্বা ও লিকলিকে হয়ে যায়। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মুখে স্থানীয়ভাবে ভাইরাসে ধরছে বলে থাকে। আক্রান্ত গাছের গোড়ার দিকে পানির উপরে থাকা গিট থেকে শিকড় বের হয়ে থাকে। বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আক্রান্ত ধানের ক্ষেতটি দেখতেও কেমন খটকা খটকা লাগে। আক্রান্ত গাছটি ধীরে ধীরে মরে যায়।

ব্যবস্থাপনা
কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, অসুস্থ ধানের কুশিগুলো তুলে ফেলতে হবে। তুলে ফেলা আক্রান্ত কুশিগুলো মাটিতে পুতে ফেলাই উত্তম তবে আক্রান্ত কুশিগুলো কোনভাবেই পানির ড্রেনে ফেলা যাবে না। নতুবা জীবাণু নতুন জমিতে আক্রান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া জমি থাকা পানি শুকিয়ে ফেলে দু-তিনদিন এভাবে রাখতে হবে। অত:পর বিঘা প্রতি ৫ কেজি এমওপি সার ও কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করে দিলে এই রোগের প্রকোপ থেকে ধানী জমিকে রক্ষা করা যায়।
উল্লেখ্য, শুরুতে কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দ্বারা বীজ শোধন বা অঙ্কুরিত বীজে স্প্রে অথবা চারা শোধন করে দিলেও এই রোগের প্রকোপ কমানো যায়।

সংকলনে: কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ।

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.