- Advertisement -

প্রতি সপ্তাহের কৃষি (২০-২৬ এপ্রিল)

369

- Advertisement -

প্রিয় কৃষিজীবি ভাই ও বোনেরা

এই সপ্তাহের কৃষির আয়োজনে আউশ ধান উৎপাদন নিয়ে লিখছি, শুরুতেই জাত নির্বাচন ও বীজতলা তৈরি; আগাম জাতের আউশ ধান যথা বিআর১৪, ব্রি ধান২৬, ব্রি ধান২৮, কুদরত, বিনা ধান১৯ এবং ব্রি ধান ৪৮ চাষ করতে পারেন। তবে স্বল্প মেয়াদি জাত ব্রি ধান৪৮ খুবই জনপ্রিয়, ইদানিং বিনা ধান১৯ জাতটিও আউশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই আপনি চাইলে ব্রি ধান৪৮ এবং বিনা ধান১৯ জাতগুলো চাষ করতে পারেন। গুণগতমানের বীজ সংগ্রহের পরপরই আদর্শ বীজতলায় হালিচারা উৎপাদন করতে হবে। রোপা আউশের চারা ২০-২৫ দিনের মধ্যে লাগাতে হবে। যথাসময়ে পরম যতেœর সঙ্গে চারা উঠাতে হবে। টানা হেঁচড়া করে চারা তোলা যাবে না। পরবর্তীতে চারা পরিবহনের জন্য ঝুড়ি বা টুকরিতে সারি করে সাজিয়ে পরিবহন করা উচিত। মূল জমিতে চারা রোপণের সময় জমিতে ছিপছিপে পানি থাকলেই চলে। সারিতে চারা রোপণ করতে হবে। চারা সব সময় অল্প গভীরে (১ ইঞ্চি) রোপণ করা উচিত। এতে কুশির সংখ্যা বাড়ে এবং চারার বৃদ্ধি ভালো হয়। রোপণ সময়, ফসলের জাত, জমির উর্বরতা, এসবের ওপর রোপণ দূরত্ব নির্ভর করে। তবে কমপক্ষে সারি-সারি ৮-১০ ইঞ্চি এবং গুছি গুছি ৬ ইঞ্চি রাখা দরকার।

পরিমিত পরিমাণে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য সম্ভব হলে মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে অথবা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের সহায়তায় কৃষি পরিবেশ অঞ্চল অনুযায়ী অনুমোদিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, জমির উর্বরতা ভেদে সারের পরিমাণ কম বেশি হবে। চারা রোপণের ৪০ দিন পর্যন্ত জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হবে। কমপক্ষে দু’বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আলোকে বালাই দমন করতে হবে। সাধারণ ব্যবস্থাপনা হিসেবে- নিয়মিত ফসল ক্ষেত জরিপ করতে হবে। ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত ব্যবহার যেকোনো রোগ-পোকার আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিমিতি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের সঙ্গে সঙ্গে জমিতে ধৈঞ্চার চারা বা ডালপালা পুঁতে দিতে হবে এতে পোকাখাদক পাখি শিকারের জন্য ক্ষেতে বসতে পারবে এবং ক্ষতিকর পোকা ধরে খাবে।

আরোও কিছু পরামর্শ-

 মাঠে দন্ডায়মান বোরো ধান ৮০ ভাগ পেকে থাকলে দ্রুত কেটে মাড়াই ঝাড়াই করে সংরক্ষণ করুন।
 বাড়ির আশে-পাশে উঁচু জমিতে শাকসবজির আবাদ করুন।
 পতিত জমি ফেলে না রেখে গিমাকলমী, পুঁইশাক, লালশাক, ডাটাশাক, পাটশাক আবাদ করুন।

কৃষিজীবি ভাই ও বোনেরা

যারা নাবীতে বোরো ধান রোপন করেছেন এই মূহুর্তে আবহাওয়া জনিত কারণে ধানের জমিতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে। নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক যেমন- ট্রুপার, নাটিভো, ফিলিয়া বা ব্লাস্টিন পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন। এসময়ে বজ্রপাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিন।

আজ এ পর্যন্তই। ততক্ষন ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

প্রয়োজনে নিকটস্থ উপসহকারি কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার, বারহাট্টা, নেত্রকোণা।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.