- Advertisement -

টেকসই পদ্ধতিতে ধান চাষে এসআরআই

এসআরআই..

493

- Advertisement -

টেকসই পদ্ধতিতে ধান চাষ: এসআরআই
ধান চাষ পদ্ধতির নতুন একটি ধারণা। এই পদ্ধতিতে বীজ, সার, পানি এবং অন্যান্য উপকরণসমূহ অপেক্ষাকৃত কম লাগে। এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো ধানের চারা, মাটি, পানি এবং খাদ্য পুষ্টির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্ব্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করার সহায়ক পরিবেশ ও প্রতিবেশ সৃষ্টি করা। এসআরআই সিস্টেম অব রাইস ইনটেনসিফিকেশন যা বাংলায় সমন্বিত ধান চাষ পদ্ধতি বলা হয়। এটি একটি পরিবেশ সহায়ক টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি।
এসআরআই পদ্ধতির উপাদান বা নীতিমালা
১. অল্প বয়সের চারা যত্ন করে রোপণ (স্পেশাল বীজতলায় তৈরিকৃত সর্ব্বোচ্চ ১৪ দিন)
২. প্রতি গোছায় একটি সবল চারা রোপণ (নরম কাদামাটি ছিপছিপে পানি)
৩. অধিক দূরত্বে চারা রোপণ ( সারি-সারি এবংগোছা-গোছা ১০-১২ ইঞ্চি) এবং প্রতি পাঁচ হাত পরপর একলাইন ফাঁক রাখা।
৪. পর্যায়ক্রমে জমি ভিজানো এবং শুকানো (এডাব্লিউডি)
৫. জমি নিড়ানো (হাত, নিড়ানি বা উইডার ব্যবহার)
৬. অধিক পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার (কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট )
এসআরআই পদ্ধতির সুবিধা
ফলন বাড়ে; ধান পুষ্ট হয়, চিটা কম হয়; উৎপাদন খরচ কমে; জমির উর্বরতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং ধান গাছ খরা ও ঝড়ে কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এসআরআই পদ্ধতিতে ধান চাষের নিয়মাবলী
চাষের মৌসুম : বোরো মৌসুম বেশ উপযোগী। তবে আমন মৌসুমে উচু জমিতে চাষাবাদ করা যায়।
জমি নির্বাচন : জমিতে পানি ধরে রাখা যায় এবং প্রচুর আলো বাতাস পায় এমন জমি উত্তম।
বীজ নির্বাচন : গুণগত মানের ভালো জাতের বীজ ব্যবহার করা উচিত।
বীজতলা তৈরি ও ব্যবস্থাপনা : ট্রে, কলার ভেলা, পলিথিন সীট বা যেকোন পাত্রেও চারা উৎপাদন করা যায়। তবে একটু উচু ভিটি তৈরি করে বীজতলা তৈরি করা উত্তম। সাধারণত ২.০-২.৫ হাত চওড়া এবং ২০-২৫ হাত লম্বা ভিটি তৈরি করা হলে খুবই ভালো।
ভিটির মাটি ঝরঝরে নরম হবে,যেনছোট চারা তুলার সময় শিকড় ছিড়ে না যায়। তাই প্রচুর পরিমাণ কম্পোস্ট বা গোবর সার ও তুষ বা কুড়া মিশাতে হবে। ভিটির শতকরা ৭৫ ভাগ হবে মাটি, ২০ ভাগ হবে জৈব সার এবং ৫ ভাগ হলে ভাল। প্রতি বর্গমিটারে ৪০-৫০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হবে। অংকুরিত বীজগুলো পাতলা করে ফেলতে হবে। চারা তুলার সময় খেয়াল রাখতে হবে,যেন চারার শিকড় কোনভাবেই ছিড়ে না যায়।

মূল জমি তৈরি ও ব্যবস্থাপনা : আড়াআড়ি চাষ করে জমিকে প্রস্তুত করতে হবে। জমি অবশ্যই সমতল হতে হবে। যথাসম্ভব মাটি পরীক্ষা করে, সুষম সার দেয়া উত্তম। তবে এই পদ্ধতিতে অধিক পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।
চারা লাগানোর লাইন তৈরি : প্রায় ১০-১২ ইঞ্চি পরপর আড়াআড়িভাবে লাইন টানতে হবে। এক্ষেত্রে দড়ি বা আচড়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
নালা বা ড্রেন তৈরি : আনুমানিক পাঁচ হাত পরপর একটি লাইনে চারা রোপণ না করে ১০-১২ ইঞ্চি চওড়া ও একই পরিমাণ গভীর করে একটি নালা তৈরি করতে হবে। এতে সেচ ও আলো বাতাসের জোগান বৃদ্ধি পাবে।
চারা রোপণ : বীজতলাথেকে অতি যতœ ও সতর্কতার সাথে চারা তুলতে হবে। চারাগুলো তোলার সাথে সাথেই অর্থ্যাৎ ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যেই মূল জমিতেরোপণ করে দিতে হবে। চারা লাগানোর সময়যে অঙ্কুরিত ধানটিওশেকড়ের সাথে আটকে থাকে সেদিকেখেয়াল রাখতে হবে।
চারার বয়স : মূলত দুটি পাতা গজালেই তা রোপণযোগ্য। আমন মৌসুমে ৭-৮ দিন হলেও বোরোতে দুই সপ্তাহের চারা লাগানো যায়।
প্রতিগোছায় চারার সংখ্যা এবং চারার দুরত্ব : প্রতিগোছায় একটি চারা লাগাতে হবে। সারি থেকে সারি ১০-১২ ইঞ্চি এবং গোছা থেকে গোছা ১০-১২ ইঞ্চি হলে উত্তম।
সেচ ব্যবস্থাপনা : জমিতে চারা রোপণের সময় জমির মাটি নরম ও কাদামাটি থাকবে কিন্তু পানি জমে থাকবে না। পরবর্তীতে কাইচ থোড় আসা পর্যন্ত জমি পর্যায়ক্রমে শুকানো ও ভিজাতে হবে।
আগাছা ব্যবস্থাপনা : হাত, নিড়ানী বা রোটারী উইডার যন্ত্র ব্যবহার করে আগাছা দমন করতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা : বিভিন্ন প্রকার জৈব সারের পরিমাণ বেশি দিতে হবে। জমির চাহিদা মোতাবেক সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।
রোগবালাই দমন : সাধারণত আইপিএম বা আইসিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগবালাই দমন করতে হবে।
অবশেষে শতকরা আশিভাগ ধান পাকার সাথে সাথে ধান কেটে মাড়াই ঝাড়াই করে নিতে হবে। অত:পর ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
সংকলনে: কৃষিবিদ মোহাইমিন।

ছবি:  ইন্টারনেট।

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.