- Advertisement -

সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন (২৭ এপ্রিল – ০৩ মে)

336

- Advertisement -

সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন
(২৭ এপ্রিল-০৩ মে)

প্রিয় কৃষিজীবী ভাই ও বোনেরা
আবহাওয়া অধিদপ্তর মারফত জানা গেল, “ফেনি” নামক সাইক্লোন বাংলাদেশের উপর ধেয়ে আসছে। আপনার জমির বোরো ধান ৮০ ভাগ পাকার সাথে সাথেই ধান কেটে মাড়াই ঝাড়াই করে গোলায় তুলে নেন। মাঠে ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টার বা রিপার মেশিন ব্যবহার করতে পারেন। ধান মাড়াইয়ের জন্য থ্রেসার মেশিন ব্যবহার করবেন তাহলে দ্রুততম সময়ে আপনি ধান সংগ্রহের কাজটি করতে পারবেন, এতে সময় বাঁচার সাথে সাথে শ্রমিক খরচও কমে যায়। ধান মাড়াইয়ের সময় কৃষক ভাই সম্ভব হলে চশমা ব্যবহার করবেন।
নাবীতে বোরো ধান রোপণকৃত জমিগুলোতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে। নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক যেমন- ট্রুপার, নাটিভো, ফিলিয়া বা ব্লাস্টিন পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি লাভবান হবেনই
মসলা ফসলের মধ্যে ধনিয়া অন্যতম। ধনিয়া মসলা ফসলের পাশাপাশি সালাদ, ভর্তা, পাকুরা, ডালে, তরকারিতে ব্যাপক সমাদৃত। তাছাড়া চটপতি, ফুসকাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারে ধনিয়া পাতার ব্যবহার মুখে পানি নিয়ে আসার মতো। ধনিয়া মূলত শীতকালীন ফসল হলেও খরিপ মৌসুমেও ধনিয়ার আবাদ হয়ে থাকে। ধনিয়া আবাদে ছিটিয়ে এমনকি সারিতেও বপন করা যায়। ছিটিয়ে বুনলে প্রতি বিঘা জমিতে আড়াই কেজি এবং সারিতে বুনলে দেড় কেজি বীজ দরকার হয়। ভালভাবে জমি প্রস্তুত করে বিঘা প্রতি সাত কেজি করে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার প্রয়োগ করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই ধনিয়া পাতা খাওয়ার উপযুক্ত হয়। ধনিয়া বর্তমান সময়ে একটি লাভজনক ফসল। আপনি চাইলে এ সময়ে আদা ও হলুদের চাষ করতে পারেন।

কৃষিজীবী ভাই ও বোনেরা

এখন আধুনিক আউশ ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। আউশ ধানের চারার বয়স ২০-২৫ দিনের মধ্যেই রোপণ করতে হবে। রোপণের সময় জমিতে ছিপছিপে পানি থাকলেই চলে। সারিতে চারা রোপণ করতে হবে। প্রতি গুছিতে একটি সবল চারা রোপণ করাই যথেষ্ট। চারা সব সময় অল্প গভীরে (১ ইঞ্চি) রোপণ করা উত্তম। কমপক্ষে সারি-সারি ৮-১০ ইঞ্চি এবং গুছি থেকে গুছির দুরত্ব ৬ ইঞ্চি রাখা দরকার। জমি তৈরির সময় প্রয়োজনীয় জৈব সার ও টিএসপি, এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। পরবর্তীতে উপরি প্রয়োগ হিসেবে ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হবে। চারা রোপণের সাথে সাথেই পার্চিং দিতে হবে। গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষী ভাইদের জন্য বলছি, সবজি ক্ষেত নিয়মিত পরিদর্শন করুন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করুন। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে সেক্স ফেরোমন ট্রেপ ব্যবহার করুন। রোগবালাই প্রতিহত করতে প্রয়োজনে অনুমোদিত বালাইনাশক পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করুন।

কৃষিজীবী ভাই ও বোনেরা
ইতোমধ্যে আপনারা অনেকেই পাট আবাদ করেছেন। পাটের অন্যতম ভয়াল শত্রু হলো আগাছা। তাই দ্রুততম সময়ে নিড়ানি দেয়ার ব্যবস্থা নিন। পাটের আগাছানাশক হিসেবে ইউনিটপ ৯ইসি বা রিকভার ৯ইসি পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।

একটু মনোযোগ দিবেন…
ক্স কার্বাইড দ্বারা পাকানো অপরিপক্ক আম কিনবেন না।
ক্স বাজার থেকে সংগৃহীত শাকসবজি প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন।
ক্স রমজান মাসে খাদ্য ও খাবার নির্বাচনে সুবিবেচক হবেন।

জরিপ মোতাবেক, বাংলাদেশে মে মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়ে থাকে। বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় কৃষক বা কৃষিজীবি মানুষ (প্রায় ৫১%) । তাই বজ্রপাত হতে সাবধান থাকুন।

কৃষি ও কৃষককে ভালবাসুন, মনে রাখবেন কৃষিই আপনার অস্তিত্বের ধারক।

প্রয়োজনে নিকটস্থ উপসহকারি কৃষি অফিসার বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন।

সংকলন: কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার, বারহাট্টা, নেত্রকোণা।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.