- Advertisement -

কৃষিতে বারহাট্টা: সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন (১২ – ১৮ অক্টোবর ২০১৯)

55

- Advertisement -

 

কৃষিতে বারহাট্টা: সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন
(১২ – ১৮ অক্টোবর ২০১৯)

প্রকৃতির বুকে শরতের বিদায় আর হেমন্তের আগমনী সুর বাজছে। হেমন্তেই অবারিত সবুজের প্রান্ত আস্তে আস্তে সোনালি রং ধারণ করবে। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে যাবে দিক দিগন্তে। মাতোয়ারা হবে মন। কৃষকের মন খুশিতে ভরে উঠবে। আগামী সপ্তাহে কৃষির ভুবনে কি আছে চলুন একটু জেনে নেই।

রোপাআমন মাঠে এখন ইদুঁর সবচেয়ে বড় সমস্যা। ইঁদুর সমস্যা নিরসনে সামাজিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। যৌথ উদ্যোগে ফাঁদ ব্যবহার, ইঁদুরের গর্তে গরম পানি দিয়ে, আইল বাতরে নতুন গর্তের মাটি খুঁড়ে, শুকনা মরিচ পোড়া ধোঁয়া গর্তে ঢুকিয়ে দিয়ে, ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার রেখে, ধাতবপাত বা তারের জালি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, আঠা ব্যবহার, কারেন্ট জাল ব্যবহার, কলাপাতার মিডরিভ ইঁদুর চলাচলের রাস্তায় ফেলে রেখে, স্বল্পমাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত তার ব্যবহারসহ ইঁদুরের লেজ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা তৈরির মাধ্যমে ইঁদুর দমন করা সম্ভব। তবে মাত্রাতিরিক্ত আক্রমন হলে জিঙ্ক ফসফাইড ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারেন।

রোপাআমন ধানী জমিতে কাইচ থোড় থেকে থোড় আসা অবধি ২-৫ সেমি পানির রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। এসময় পানির অভাব দেখা দিলে ধানের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাই বৃষ্টি হলে পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা নিন। বৃষ্টির অভাব হলে অবশ্যই সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নদী, পুকুর খাল, বিল ডোবা যেখানেই পানি সেচের উৎস পাওয়া যায় সেখান থেকে পাম্প, নলকুপ, দোন সেউতি দিয়ে সেচ দেয়া নিশ্চিত করতে হবে। সম্পুরক সেচ আমনের ফলন বহুগুন বাড়িয়ে দেয়।

রোপাআমনে এসময়ে বিপিএইচ বা বাদামী গাছ ফড়িংএর আক্রমন হতে পারে। তাই নিয়মিত ধান ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিয়মিত আলোক ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। মাঠে পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমন রয়েছে, সেজন্য প্রথমে বড়ই গাছের ডাল দিয়ে ধানের পাতায় উল্টাপাল্টা করে বাড়ি দিয়ে দিলে আক্রমনের তীব্রতা কমে যায়। আক্রমনের তীব্রতা বেশি হলে কার্বারিল/ক্লোরোপাইরিফস গ্রæপের কীটনাশক পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।

আগাম সবজি চাষীদের জন্য পরামর্শ, বেলে দো-আঁশ মাটিতে সবজি বেশ ভালো হয়। মূল জমি প্রথমে ৪-৫ বার করে জমি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে নিতে হবে। সবজি ফসলের জন্য জৈব সার খুবই গুরুত্বপুর্ণ। তাই জমি তৈরির সময় পর্যাপ্ত পরিমান জৈব সার দিতে হবে। রাসায়নিক সার একর প্রতি ইউরিয়া ১৬০ কেজি, টিএসপি ১৪০ কেজি, এমপি ১০০ কেজি, পচাগোবর ৫ টন পরিমাণ ব্যবহার করতে পারেন। জমি প্রস্তুত করে, চারার বয়স ২৫-৩০ দিনে হলেই জমিতে রোপন করে দিন।
সবজি চাষীদের বলছি জমি তৈরির সময় শতক প্রতি ৪ কেজি হারে ডলোচুন ব্যবহার করে নিবেন। তাছাড়া বেগুন, টেেমটোসহ বিভিন্ন ফসলের ঢলে পড়া রোগের প্রতিকার হিসেবে জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি ২ কেজি বিøচিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এতে জমির ক্ষতিকর অণুজীবগুলো মারা যাওয়াসহ মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মিকম্পোস্ট খুবই কার্যকরী সার।

পাটের বীজ সংরক্ষণের জন্য রোদ্রময় দিনে পাট বীজগুলোকে আলাদা করে রোদে শুকিয়ে যতœ করে সংরক্ষণ করুন। ইতোমধ্যে রোপিত বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা মরে গিয়ে থাকলে এখনই গ্যাপ পূরণ করে নিতে পারেন। তাছাড়া এই বর্ষায় রোপণ করা চারার গোড়ায় মাটি দেয়া, চারার অতিরিক্ত এবং রোগাক্রান্ত ডাল ছেঁটে দেয়া, বেড়া বা খাঁচা এবং খুঁটি দেয়াসহ অন্যান্য পরিচর্যা করতে হবে।

নিচু এলাকার মাঠের পানি কমতে শুরু করেছে তাই এসময়ে বিনা চাষে মাসকলাই, খেসারি এমনকি পানিকচু রোপন করতে পারেন। তাছাড়া পরিত্যক্ত বীজতলা, রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায়, পতিত মাঠে মাসকলাই বুনে দিতে পারেন।

দুর্যোগ মোকাবেলায়
“নিয়ম মেনে অবকাঠামো গড়ি, জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি হ্রাস করি”

কৃষিই সমৃদ্ধি, কৃষিই আপনার অস্তিত্বের ধারক।

সংকলন: কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার, বারহাট্টা, নেত্রকোণা।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.