- Advertisement -

কৃষিতে বারহাট্টা: সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন (২৮ সেপ্টেম্বর-০৪ অক্টোবর)

99

- Advertisement -

 

কৃষিতে বারহাট্টা: সাপ্তাহিক কৃষি বুলেটিন
(২৮ সেপ্টেম্বর-০৪ অক্টোবর ২০১৯)

মাঠে মাঠে সবুজ চাদর বিছানো আর নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা এবং কাশফুলের শুভ্রতা সবই মনের মতন। সবুজ ঘাসের উপর শিশির বিন্দু জমতে শুরু হয়েছে। শিশিরগুলো জানান দিচ্ছে শীত আসছে। আশ্বিন মাস আর্শিবাদের মাস। কৃষক ভাইয়েরা মনোমুগ্ধকর এই মাসের আগামী সপ্তাহে কৃষির ভুবনে কি আছে চলুন একটু জেনে নেই।

রোপাআমন রোপন কাজ শেষ। ইতোমধ্যে রোপণকৃত আমন ফসল এখন বাড়ন্ত পর্যায়ে। রোপনকৃত চারার বয়স ৪৫-৫০ দিন হলে ইউরিয়া শেষ দফা উপরি প্রয়োগ করা দরকার। উপরি প্রয়োগের সময় জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। আগাছা ধান গাছের শক্র। রোপা আমন ধানের জমিতে চারা রোপনের পর পানি কম থাকলে প্রচুর আগাছা হয়ে থাকে। আমন ধানের সাধারণত পানিকচু, শ্যামা, কচুরিপানা এসব আগাছা জন্মে। আগাছা দমনে দেরি করলে ফলন অনেক কমে যায়। গবেষনায় দেখা যায়, প্রতি বর্গমিটারে যদি ২০টি পানিকচু থাকে তবে ফলন শতকরা ২৫ ভাগ কমে যায়। এজন্য আমন মৌসুমে ধান লাগানোর ৩৫-৪০ দিন পর্যন্ত জমিকে আগাছা মুক্ত রাখা দরকার।

রোপাআমনে ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। সাধারণত গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঘুমোট পরিবেশেই ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগের বিস্তার দ্রুত ঘটে। ধানের ব্লাস্ট রোগ নিয়ন্ত্রণে জমিতে কাইচ থোর আসার আগেই নাটিভো ৬ গ্রাম বা ট্রুপার ৮ গ্রাম বা দিফা ৮ গ্রাম বা ব্লাস্টিন ৬ গ্রাম পরিমাণ ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করে দিতে হবে। ধানের বিএলবি রোগ মুক্তির জন্য বিঘা প্রতি ৫ কেজি হারে এমওপি সার ব্যবহার করতে হবে। ধানচাষে একটা টনিক ফর্মুলা, কাইচ থোড় আসার আগ মুহুর্তে জমিতে ৬০ গ্রাম এমওপি সার + ৬০ গ্রাম থিওবিট + ১০ লিটার পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করা।

কলা বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ মাসে কলার চারা রোপন সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়। ভাল উৎস বা চাষি থেকে কলার অসি চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে হবে। অমৃত সাগর, মেহের সাগর, সবরি, কবরি, চাপা, বীচিকলা সহ যে কোন কলা ২.০ থেকে ২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ৬০ সেন্টিমিটার গভীর গর্তে রোপন করতে হবে। প্রতি গর্তে ৫-৭ কেজি পচা গোবর, ১২৫ গ্রাম বরিক এসিড ভালভাবে মিশিয়ে ৫-৭ দিন পর অসি চারা রোপন করতে হবে। ষড়ভুজ পদ্ধতিতে কলা রোপনের নকশা করলে অতিরিক্ত লাভ পাওয়া যায়। কলা বাগানে সাথী ফসল চাষ করা যায়।

আগাম সবজি হিসেবে শিম, টমেটো, লাউ, বেগুন, ফুলকপি এসব ফসলের যত্নের অভাব দেয়া যাবে না। কথায় আছে, যত্নে রত্ন মিলে তাই প্রয়োজনীয় খুঁটি সংযোজন, সেচ, বাউনি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, সার, বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

আশি^ন মাসেও ফল এবং ঔষধি গাছের চারা লাগানো যায়। এই বর্ষায় রোপণ করা চারার গোড়ায় মাটি দেয়া, চারার অতিরিক্ত এবং রোগাক্রান্ত ডাল ছেঁটে দেয়া, বেড়া বা খাঁচা এবং খুঁটি দেয়া, মরা চারা তুলে নতুন চারা রোপণসহ অন্যান্য পরিচর্যা করতে হবে।

এসময়ে বিনা চাষে মাসকলাই, খেসারি এমনকি পানিকচু রোপন করতে পারেন। তাছাড়া পরিত্যক্ত বীজতলা, রাস্তার পাশে উঁচু জায়গায়, পতিত মাঠে মাসকলাই বুনে দিতে পারেন।

কৃষিই সমৃদ্ধি, কৃষিই আপনার অস্তিত্বের ধারক।

সম্পাদনা: কৃষিবিদ মোহাইমিন

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.